গেরুয়া শিবিরের দখলে নদিয়া জেলা পরিষদ, ‘বিবেক ভোটে’ সভাধিপতি বিজেপির প্রণতি বিশ্বাস
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৫ আগস্ট ২০২৬
নদিয়া জেলা পরিষদে ক্ষমতার বড়সড় রদবদল। নদিয়া জেলা পরিষদ দখলে নিল বিজেপি (BJP)। নতুন সভাধিপতি হলেন বিজেপির প্রণতি বিশ্বাস (Pranati Biswas)। রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূলের (TMC) সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মীরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে এসে অপসারিত করে তাঁরই দলের সদস্যরা। বুধবার, সভাধিপতি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হলেন প্রণতি (Pranati Biswas)। ২১ ভোট পেয়ে নতুন সভাধিপতি হলেন তিনি (Pranati Biswas)।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই নদিয়া জেলা পরিষদে সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করে। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) তৎকালীন সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মীরের বিরুদ্ধে তাঁরই দলের একাংশের সদস্যরা অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। অনাস্থা ভোটে তিনি পদচ্যুত হওয়ার পর নতুন সভাধিপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এদিন সভাধিপতি নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী প্রণতি বিশ্বাস (Pranati Biswas) ২১টি ভোট পেয়ে জয়ী হন। উল্লেখযোগ্যভাবে, আগে জেলা পরিষদে বিজেপির (BJP) সদস্য সংখ্যা ছিল মাত্র ছয়। পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের জেরে একাধিক সদস্যের সমর্থন বিজেপির দিকে চলে আসায় নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং সেই সমীকরণের ভিত্তিতেই প্রণতি বিশ্বাস (Pranati Biswas) জেলা পরিষদের নতুন সভাধিপতি নির্বাচিত হন।
জয়ের পর জেলা পরিষদ চত্বরে বিজেপি (BJP) নেতা-কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। উপস্থিত ছিলেন রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ জগন্নাথ সরকার (Jagannath Sarkar) -সহ দলের একাধিক নেতা। নবনির্বাচিত সভাধিপতি প্রণতি বিশ্বাস (Pranati Biswas) বলেন, ২০২৩ সাল থেকে আমরা বিরোধী আসনে ছিলাম। সেই সময় আমাদের কোনও কাজই করতে দেওয়া হয়নি। আজ মানুষের আশীর্বাদ ও জনপ্রতিনিধিদের সমর্থনে আমরা এই জয় পেয়েছি।
আগামী দিনে জেলা পরিষদের উন্নয়নমূলক কাজই হবে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। জেলা পরিষদে ভবিষ্যতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কোনও ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এলে আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে। স্বচ্ছতা বজায় রেখেই জেলা পরিষদের কাজ পরিচালিত হবে।
অন্যদিকে, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, এদিন নদিয়া জেলা পরিষদে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যরাই তাঁদের দলের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন। আমরা সবসময়ই দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের পক্ষে। বিজেপি সরকার স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন দিতে বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদে আমাদের সদস্য সংখ্যা ছিল মাত্র ছয়। একটি আসন ওবিসি সংরক্ষিত ছিল। তারপরও বিবেকের ভোটে আমরা ২১ জন সদস্যের সমর্থন পেয়েছি। বিরোধীরা আমাদের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়ার সাহসও দেখাতে পারেনি। এই ফলাফল প্রমাণ করে, পরিবর্তনের পক্ষে জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন ক্রমশ বাড়ছে।
নদিয়া জেলা পরিষদে এই ক্ষমতার পরিবর্তন জেলার রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আগামী দিনে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কাজকর্ম ও রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।