মহারাষ্ট্রে পনিরের উৎপাদন-বিক্রি নিষিদ্ধ! অন্যথায় ৬ মাসের জেল, লক্ষ টাকা জরিমানা
প্রতিদিন | ০৫ আগস্ট ২০২৬
ছত্তিশগড়ের পরে মহারাষ্ট্র। উদ্ভিজ্জ চর্বি সমৃদ্ধ নকল পনির নিষিদ্ধ করল রাজ্য সরকার। আগামী এক বছরের জন্য ‘অ্যানালগ’ পনিরের উৎপাদন, বিতরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ হল মহারাষ্ট্রে। এর অন্যথা হলে ৬ মাসের জেল, ১ লক্ষ টাকা অবধি জরিমানা হতে পারে। জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে ৩০ জুলাই নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছেন রাজ্যের খাদ্য দপ্তরের কমিশনার তুকারাম মুন্ডে।
গবাদি পশুর দুধ থেকে তৈরি পনির পুষ্টিকর খাবার হিসাবে গোটা ভারতে প্রসিদ্ধ। বিশেষ করে নিরামিষ ভোজিরা প্রোটিন সমৃদ্ধ পনির খেয়ে থাকেন। যদিও মহারাষ্ট্রের বাজারে নকল পনির ছেয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ আসছিল। শুরু হয় পনিরের ল্যাব পরীক্ষা। তাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় বিশেষজ্ঞদের। দেখা যায় বাজার বিক্রি হওয়া পনিরের বড় অংশে ৩৫ শতাংশেরও বেশি উদ্ভিজ্জ চর্বি মেশানো রয়ছে। স্বভাবতই গুণমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি ওই পনির। এরপরেই কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেয় মহারাষ্ট্র সরকার।
রাজ্যের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সমস্ত হোটেল, রেস্তরাঁ, ক্যাটারার এবং ক্লাউড কিচেনে দুগ্ধজাত পণ্যের কৃত্রিম বিকল্প পনির ব্যবহার, প্রস্তুত, পরিবেশন বা সংরক্ষণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তদন্তে ব্যাপক হারে ভোক্তা প্রতারণার বিষয়টিও উঠে এসেছে। দেখা গিয়েছে, রেস্তরাঁগুলো মেনুতে কোনও উল্লেখ ছাড়াই আসল দুধের পনিরের পরিবর্তে সস্তার নকল পনির ব্যবহার করছে।
সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আসল পনির উৎপাদনের ক্ষেত্রে এখন FSSAI-এর প্যাকেজিং ও লেবেলিং সংক্রান্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। পণ্যে দুধের চর্বির সঠিক পরিমাণ রাখতে হবে। প্যাকেটে উল্লেখও করতে হবে। এই নির্দেশের বিষয়ে ‘অল ইন্ডিয়া ফুড অ্যান্ড ড্রাগ লাইসেন্স হোল্ডার ফাউন্ডেশন’-এর সভাপতি অভয় পান্ডে বলেন, “মহারাষ্ট্রে ‘চিজ অ্যানালগ’ নিয়ে অনেক আলোচনা ও প্রশ্ন উঠেছিল। অবশেষে নিষিদ্ধকরণের নির্দেশিকা জারি হয়েছে।”