রাষ্ট্রের নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ পরিস্থিতি বিপজ্জনক করে, ককরোচ বিক্ষোভ নিয়ে পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের
প্রতিদিন | ০৫ আগস্ট ২০২৬
দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভে নৃশংসতার অভিযোগ নিয়ে শাসক শিবিরকে সতর্ক করল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত বলল, রাষ্ট্রের দোহাই দিয়ে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ সবসময় পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে। বিক্ষোভকারীদের বোঝানো এবং তাঁদের কথা শোনার বিকল্প কিছু হতে পারে না।
অভিযোগ ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ ভবন অভিযানে ব্যাপক লাঠিচার্জ করা হয়েছে, কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। মহিলা আন্দোলনকারীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এমনকী ওই বিক্ষোভে পেলেট গান বা ছররা বন্দুক চালানোর অভিযোগ উঠেছে। আসলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে সিআরপিএফের র্যাফ নামিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। অভিযোগ র্যাফ কোনও সতর্কবাণী ছাড়াই লাঠিচার্জ করে, কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এমনকী ছররা চালিয়ে দেয় র্যাফ।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট ককরোচদের বিক্ষোভ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি ছিল। মামলাকারীর আর্জি ছিল, বিক্ষোভে অশান্তির জন্য আয়োজকদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে হবে। বিক্ষোভকারীদের অন্তত ৭ দিনের জন্য সমাজসেবার নির্দেশ দিতে হবে। এই ধরনের আরও কয়েকটিকে আর্জিকে একত্রিত করে মঙ্গলবার মামলা শোনে শীর্ষ আদালত। সেই শুনানি চলাকালীনই শীর্ষ আদালত বলে দেয়, “রাষ্ট্রের নামে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাতে আরও হিংসা ছড়াতে পারে।” শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, “গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার সবার আছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলিকে আরও ধৈর্য দেখাতে হবে।” সুপ্রিম কোর্ট বলছে, “এই ধরনের হিংসাত্মক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হল শোনা। তাঁরা কী বলতে চাইছে, সেটা জানা। এরা আসলে যুব সমাজ। ওদের অনেক পরামর্শ দরকার।”
শীর্ষ আদালতের সাফ কথা, “রাষ্ট্রের নামে যদি কারও উপর আগ্রাসন নেমে আসে তাহলে বিক্ষোভকারীরা অহেতুক হিংসার রাস্তা বেছে নেন। তাই এই পরিস্থিতি এড়াতে হবে।” তবে একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, এই ধরনের পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে, সেটা ঠিক করবে দায়িত্বে থাকা সুরক্ষা বাহিনীই।