• গৃহশিক্ষক থেকে খাদানের ব্যবসা! টুলুর ২০০ কোটির সাম্রাজ্য কীভাবে? পুলিশের থেকে নথি নিচ্ছে ইডি
    প্রতিদিন | ০৫ আগস্ট ২০২৬
  • বীরভূমের বালি-পাথর ব্যবযায়ীর আকাশছোয়া সম্পত্তি! প্রায় ২০০ কোটি টাকার সম্পত্তি তাঁর। এসটিএফ ওই ঘটনার তদন্ত করছে। এবার টুলুর এই বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস কী? সেই বিষয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র নজরে টুলু। এই ব্যবসায়ীর বিপুল বেআইনি অর্থের উৎস নিয়ে তদন্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। এমনই ইডি সূত্রে খবর। ইতিমধ্যে বীরভূম জেলা পুলিশের কাছে টুলুর সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য, নথিপত্র ইডি চেয়েছে। কিছু নথিপত্র হাতেও এসেছে। টুলুর আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তি, সংস্থার কাজকর্ম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনই ইডি সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।

    জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, টুলু মণ্ডলের (Tulu Mondal) সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়েছে। টুলুর স্ত্রী-মেয়ের নামেও প্রচুর সম্পত্তি, সংস্থা রয়েছে। প্রথম জীবনে গৃহশিক্ষক থেকে দিনমজুরি! পরে খাদানের ব্যবসায় টাকা লগ্নি থেকে বালি-পাথর খাদানের সাম্রাজ্যের মালিক হয়ে ওঠা! একের পর এক সম্পত্তি, বিলাসবহুল গাড়ি। জমি-বাড়ি, নগদ টাকা, সোনার পরিমাণ দেখে চক্ষুচড়কগাছ হয়েছে পুলিশের একাংশেরও। উল্কার গতিতে কীভাবে উত্থান হল? কত গভীরে এই দুর্নীতির শিকড় ছড়িয়ে? সেই চর্চা চলছে। এবার আসরে নামতে চলেছে ইডিও। জেলা পুলিশের থেকে তথ্য নিয়ে ইডিও টুলুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে পারে বলে খবর।

    বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভুন্দেশ জানান, এখনও পর্যন্ত টুলু মণ্ডলের (Tulu Mondal) সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে জেলা পুলিশ। যার মধ্যে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা থাকা নগদ, ফিক্সড ডিপোজিট ও মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া টাকা ও সোনার হিসাব রয়েছে। এছাড়াও প্রায় ৪০০ বিঘা জমি, বাড়ি ও অন্যান্য নির্মাণেরও হদিশ মিলেছে৷ সেগুলিকেও তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান জেলা পুলিশ সুপার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তে দুবাই-সহ ভারতের বাইরের একাধিক জায়গায় তাঁর বিলাসবহুল রিসর্ট, ফ্ল্যাট এবং অন্যান্য বিনিয়োগেরও হদিশ মিলেছে। আরও সম্পত্তির খোঁজ চলছে।

    এছাড়াও মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া সোনা দুবাই ও সুইজারল্যান্ড থেকে এসেছে বলেও তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান। গত অর্থবর্ষে টুলু মণ্ডল প্রায় ৪৫ কোটি টাকা আয়কর দিয়েছেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। ফলে উদ্ধার হওয়া বিপুল সম্পদের কতটা বৈধ, কতটা অবৈধ? টাকার প্রকৃত উৎস কী, সেই উৎস আইনসিদ্ধ কিনা? বিদেশ থেকে আসা সোনা বৈধভাবে আমদানি করা হয়েছে কি? আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের সঙ্গে কোনও যোগ রয়েছে? হাওয়ালার মাধ্যমে বিদেশে অর্থপাচারের কি অভিযোগ রয়েছে? সেইসব বিষয় এখন ইডির তদন্তের আওতায় আসতে চলেছে বলে খবর।
  • Link to this news (প্রতিদিন)