: অজয় নদের উপর ১৯৮০ সালে তৈরি হয়েছিল কাশীরাম দাস সেতু। পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া থেকে কেতুগ্রামের সংযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সেতু। শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই ব্রিজ ব্যবহার করে কাটোয়া, বর্ধমান, কালনা থেকে কলকাতা-সহ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। রোগী বহনকারী অ্যাম্বুল্যান্স, বাস, লরি থেকে শুরু করে ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহনের নিত্যদিনের ভরসা এই সেতুই। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেতুর অবস্থা এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
স্থানীয় বাসিন্দা সমীর পাল বলেন, “ব্রিজের বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। কারণ যেতে খুব কষ্ট। ব্রিজটার উপর দিয়ে এমনভাবে যাওয়া হয় যেন নিজেকে লাইফ রিক্স মনে হয়। এতটাই অবস্থা খারাপ। মনে হয় যেন যেকোনও সময় হুরমুড়িয়ে ভেঙে যাবে ব্রিজটা। তা অবিলম্বে ব্রিজটা ঠিক করলে খুব উপকার হবে নইলে আমাদের কর্মজীবনে খুবই ব্যাহত হবে।”
দীর্ঘ এই সেতুর একাধিক জায়গায় তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। কোথাও কংক্রিট খসে পড়েছে, কোথাও ভেঙে গিয়েছে রেলিং, আবার কোথাও বেরিয়ে এসেছে লোহার রড। বড় গাড়ি চলাচলের সময় গোটা সেতু কেঁপে ওঠে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, অন্তঃসত্ত্বা মহিলা কিংবা বয়স্কদের নিয়ে এই সেতু পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতে হয় বলে দাবি এলাকাবাসীর। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা গৌতম ঘোষ বলেন, “এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ। এখানে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং এই ব্রিজের উপরে আমরা বাদশাহী রোডে কানেক্ট হচ্ছে, বোলপুর যাচ্ছে। একটা বিস্তর তিনটে জেলার লোড এইটার ব্রিজের উপর দিয়ে যায় প্রত্যেকদিন। সেজন্য এই ব্রিজটার গুরুত্ব অপরিসীম। তাড়াতাড়ি এটা সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, তিন জেলার যোগাযোগের অন্যতম লাইফলাইন এই কাশীরাম দাস সেতুর দ্রুত সংস্কার করা হোক। তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো প্রয়োজনীয় মেরামতি না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং সেতুর অবিলম্বে সংস্কারের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।