• মোদীর রিলস সরানোর ব্যাখ্যা দিল মেটা, ডিপফেক-আপত্তিকর কনটেন্টের জন্য ক্ষমা চাইলেন জ়াকারবার্গ
    এই সময় | ০৫ আগস্ট ২০২৬
  • ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বানানো ভিডিয়ো সরিয়ে দিয়েছিল ফেসবুক। সেই নিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা দেশ। মেটা-র সিইও মার্ক জ়াকারবার্গের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। শেষ পর্যন্ত বুধবার সংসদীয় কমিটির কাছে ক্ষমা চাইলেন তিনি। অবশ্য মোদীর ভিডিয়ো সরিয়ে দেওয়ার জন্য নয়। ডিপফেক এবং শিশুদের যৌন হেনস্থা সংক্রান্ত কনটেন্টের জন্যই তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন বলে জানা গিয়েছে। মোদীর ভিডিয়ো সরানোর বিষয়টিকে তিনি প্রযুক্তিগত ত্রুটি বলে উল্লেখ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

    গত ৩ অগস্ট মেটা, স্ন্যাপচ্যাট, গুগল, এক্স এবং ইউটিউবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় কমিটি। সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে কেন শিশু যৌন নিপীড়নমূলক বিষয়বস্তু রয়েছে, সেই নিয়ে জানতে চাওয়া হয় মেটার কাছে। তিন দিন সময় দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিয়ো সরিয়ে দেওয়ার দায় কার, সেই প্রশ্নও তোলেন কমিটির সদস্যরা। পরে একটি সাংবাদিক বৈঠকে নিশিকান্ত দুবে দাবি করেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভিডিয়ো পাঁচ ঘণ্টার জন্য সরিয়ে দেওয়া গুরুতর অপরাধ। এমন ঘটনায় মেটার ক্ষমা প্রার্থনা যথেষ্ট নয়। জ়াকারবার্গকে ক্ষমা চাইতে হবে।’

    এর পরে এ দিন ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন মেটার গ্লোবাল টিমের প্রতিনিধিরা। তবে সেখানে মেটার সিইও জ়াকারবার্গ ছিলেন না। ছিলেন মেটার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রধান জোয়েল কাপলান। তাঁর সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট আলোচনা করেন তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস কৃষ্ণন এবং মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ কর্তারা। সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বলে উল্লেখ করা হয়। টাকার বিনিময় কিছু কনটেন্ট ‘বুস্ট’ করা হয় বলেও স্বীকার করে নেয় মেটা। পাশাপাশি মেটার প্ল্যাটফর্মে শিশু যৌন নির্যাতনের কনটেন্ট (CSAM), ডিপফেক-সহ বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেন মেটার সিইও মার্ক জ়াকারবার্গ।

    মেটার সবচেয়ে বড় বাজার হলো ভারত। দেশে কয়েকশো মিলিয়ন মানুষ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন। ফলে ডিপফেক এবং শিশু যৌন হেনস্থা সংক্রান্ত কনটেন্ট নিয়ে জ়াকারবার্গ ক্ষমা চেয়ে নিলেন বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। এ দিনের বৈঠকে কনটেন্ট মডারেশন, ইউজ়ারদের নিরাপত্তা এবং ভারতীয় আইন মেনে প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

    উল্লেখ্য, সংসদীয় কমিটির বৈঠকের পরে জ়াকারবার্গ ক্ষমা না চাইলে মেটার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারায় যে আইনি সুরক্ষা (Safe Harbour Protection) রয়েছে, তা তুলে নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন নিশিকান্ত। উল্লেখ্য, তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৭৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, এক্স-এর মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কোনও ব্যবহারকারী বেআইনি বা আপত্তিকর কিছু পোস্ট করলে, শুধুমাত্র সেই পোস্টের জন্য প্ল্যাটফর্মকে দায়ী করা যায় না। এই আইনি সুরক্ষাকেই বলা হয় ‘সেফ হারবার’।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে দেওয়া একটি ভিডিও ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে কয়েক ঘণ্টার জন্য সরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত।

    সংস্থার দাবি, এটি কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত নয়, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভুলবশত ভিডিওটি সরানো হয়েছিল। পরে সেটি পুনরায় প্রকাশ করা হয়।

    সূত্রের দাবি, তিনি সংসদীয় কমিটির কাছে শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট (CSAM), ডিপফেক এবং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। মোদীর ভিডিও সরানোর জন্য আলাদা করে ক্ষমা চাননি।

    কমিটি জানতে চেয়েছিল, সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভিডিও সরানোর দায় কার।

    না। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মেটার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রধান জোয়েল কাপলান-সহ সংস্থার প্রতিনিধিরা। তবে সূত্রের দাবি, জ়াকারবার্গ সংসদীয় কমিটির কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন।

    তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৭৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনও ব্যবহারকারী বেআইনি বা আপত্তিকর কনটেন্ট পোস্ট করলে শুধুমাত্র সেই পোস্টের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে সরাসরি দায়ী করা যায় না। এই আইনি সুরক্ষাকেই 'সেফ হারবার' বলা হয়।

  • Link to this news (এই সময়)