হলদিয়া, সৈকত শী: বাড়ির সামনেই মৃত্যুর ফাঁদ, ঘুনাক্ষরে টের পেল না কেউই! খেলতে খেলতে আচমকা নেমে এল চরম বিপর্যয়। বাড়ির অনতিদূরে পাইপলাইনের জন্য খোঁড়া গর্তে জমা জলে পড়ে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল এক ৮ বছরের নিষ্পাপ শিশুর। বুধবার, এই ঘটনাটি ঘটেছে হলদিয়ার ভবানীপুর থানার অন্তর্গত কুমারপুর গ্রামে। মৃত শিশুর নাম শেখ নঈম আক্তার। এক লহমায় চোখের সামনে থেকে ছোট্ট শিশুর এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না কেউই। এই ঘটনায় পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া, আর পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলের দিকে নিজের বাড়ির কিছুটা দূরে একাই খেলাধুলো করছিল ৮ বছরের শেখ নঈম আক্তার। ওই এলাকায় পাইপলাইন বসানোর কাজের জন্য বড় বড় গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। সম্প্রতি বর্ষা ও জমা জলের কারণে সেই পাইপলাইনের গর্তটি কানায় কানায় জলে পূর্ণ ছিল। খেলতে খেলতে অসাবধানতাবশত শিশুটি পা পিছলে ওই গভীর গর্তের জলে পড়ে যায়। জল গভীর হওয়ায় সে আর উঠে আসতে পারেনি। বেশ কিছুক্ষণ শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা।
কৃষ্ণনগর ছেড়ে বর্ধমানের রাস্তায় ঘুরছে গোপাল ভাঁড়, সঙ্গে আবার গিন্নিও আছে! আসল উদ্দেশ্য কী? পুরোটাই চমক
দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর পাইপলাইনের জমা জলে শিশুটিকে তলিয়ে যেতে দেখে শিউরে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত তাঁকে জল থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ভবানীপুর থানার পুলিশ। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করে এবং কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কুমারপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি, খোলা পাইপলাইনের গর্ত নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, জনবসতি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাইপলাইনের গর্ত এভাবে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখার ফলেই আজ একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেল। অবিলম্বে এলাকার সমস্ত বিপজ্জনক গর্ত বুজিয়ে উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।