মুম্বাইয়ে টাটার সঙ্গে শিল্প বৈঠকে রাজ্য, জট কাটাতে শুরু তৎপরতা
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৬ আগস্ট ২০২৬
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই শিল্পায়নকে নতুন করে গতি দেওয়ার বার্তা দিয়েছে নবান্ন। সেই আবহেই মুম্বাইয়ে টাটা গোষ্ঠীর শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করল রাজ্য শিল্প দপ্তরের প্রতিনিধিদল। ওই বৈঠকে সিঙ্গুর প্রকল্প ঘিরে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি যেমন উঠে এসেছে, তেমনই পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে বিনিয়োগের জন্য টাটা গোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রের খবর।
সিঙ্গুরে টাটার ছোট গাড়ির কারখানা না হওয়ায় সালিশি ট্রাইবুনাল টাটা গোষ্ঠীর পক্ষে ৭৬৫ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে। সেই ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট আইনি ও প্রশাসনিক দিক নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই ক্ষতিপূরণের অঙ্ক এবং সেটা নিয়ে কীভাবে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছনো যায়, তা নিয়েই মূলত এই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
তবে শুধু ক্ষতিপূরণেই আলোচনা সীমাবদ্ধ থাকেনি। রাজ্যের শিল্পোন্নয়নের নতুন রূপরেখা তুলে ধরে পশ্চিমবঙ্গে আবার বিনিয়োগের জন্য টাটা গোষ্ঠীকে আহ্বান জানিয়েছে শিল্প দপ্তর। উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিকাঠামো-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়েও প্রাথমিক স্তরে মতবিনিময় হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, টাটা গোষ্ঠীকে আবার পশ্চিমবঙ্গে ফিরিয়ে আনাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর বক্তব্য ছিল, অতীতের তিক্ততা ভুলে শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলে দেশের প্রথম সারির শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে বাংলায় বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে চায় সরকার।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সিঙ্গুর বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বাংলার শিল্পায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই প্রেক্ষাপটে টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠক এবং নতুন করে বিনিয়োগের আহ্বান নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন এই আলোচনার পর বাস্তবে নতুন বিনিয়োগের পথ কতটা প্রশস্ত হয়, সেদিকেই নজর শিল্পমহল ও প্রশাসনের। তবে এই বৈঠক নিয়ে এখনও রাজ্য সরকার বা টাটা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। কলকাতা হাইকোর্টে যে মামলা চলছে টাটা গোষ্ঠীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়ে সেটা নিয়ে আলোচনা করতেই মুম্বাইতে যায় রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি বলে নবান্ন সূত্রে খবর।