• ভারত বিরোধী এজেন্ডা! ক্ষমা চেয়ে মেটার স্বীকারোক্তি, ‘বিশেষ কনটেন্ট দেখানোর জন্য টাকা ঢালা হচ্ছে’
    প্রতিদিন | ০৬ আগস্ট ২০২৬
  • টাকার বিনিময়ে ভারত বিরোধী এজেন্ডা ছড়াচ্ছে মেটা! প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও ডিলিট ও ক্ষমা প্রার্থনার পর কার্যত সেটাই মেনে নিল মার্ক জুকারবার্গের সংস্থা। মেটা (Meta) স্বীকার করে নিয়ে, ভারতে বিশেষ কিছু কনটেন্ট ছড়ানোর জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছে তাদের সংস্থাকে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চিন্তা বেড়েছে কেন্দ্রের। কৃষক আন্দোলন, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, ই-২০ পেট্রলের মতো ইস্যুকে হাতিয়ার করে কারা ভারতে জেন জিকে খেপিয়ে তুলতে পর্দার আড়ালে ষড়যন্ত্র করছে? সোশাল মিডিয়ায় মগজ ধোলাই করে পুতুলের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে জেন জিকে।

    ২৩ জুলাই জেন-জি পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি সেলফি ভিডিও বানান। ফেসবুক থেকে সেই ভিডিও গায়েব হওয়ার পর তুমুল বিতর্ক হয়। এই ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার জন্য মেটাকে তিনদিনের চূড়ান্ত সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিল কেন্দ্র। তবে তার আগেই এদিন ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে সংস্থা। সূত্রের খবর, মোদির ভিডিও সরানোর বিষয়ে প্রযুক্তি-প্রক্রিয়ার ত্রুটির কথা বলা হয়েছে সংস্থার তরফে। এছাড়া ‘চাইল্ড পর্নে’র মতো নানা আপত্তিকর কন্টেন্ট আপলোড করার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন মেটাকর্তা মার্ক জুকারবার্গ। এর পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, মেটার শীর্ষকর্তার তরফে স্বীকার করে নিয়েছেন নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্টের প্রচার বাড়ানোর জন্য তাঁদের সংস্থাকে বিপুল অর্থ দেওয়া হয়েছিল। মেটার এই স্বীকারোক্তিই চিন্তা বাড়াচ্ছে কেন্দ্রের।

    কারণ, ভারতে কোটি কোটি মানুষ মেটা (ফেসবুক), ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ-এর মতো সোশাল মিডিয়া প্ল্যার্টফর্ম ব্যবহার করেন। যার বড় সংখ্যাটা জেন-জি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই সোশাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে বিশেষ কোনও মতাদর্শের প্রচার চালিয়ে যুবসমাজের মগজ ধোলাই কঠিন কিছু না। মেটার স্বীকারোক্তিতেই স্পষ্ট যে অর্থের বিনিময়ে গোপনে সেই প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। ই-২০ বিদ্রোহ যত না মাঠে ময়দানে দেখা গিয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি প্রতিবাদ দেখা গিয়েছে সোশাল মিডিয়ায়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতীন গড়কড়ির ডিপ ফেক ভিডিও ভাইরাল হয় সোশাল মিডিয়ায়। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিকে অস্ত্র করে কৃষকদের খেপিয়ে তুলতে ভুয়ো প্রচার চালানো হয়। এমনকী প্রশ্ন ফাঁসের পর দ্বিতীয়বার সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নেওয়া হলেও এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে যন্তর মন্তরে যে বিক্ষোভ হয় তার নেপথ্যে অনেকটা বড় ভূমিকা ছিল এই সোশাল মিডিয়ার। একের পর এক সরকার বিরোধী কনটেন্টের মাধ্যমে খেপিয়ে তোলা হয় জেন জিকে।

    সোশাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের উপর লাগাম টানতে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, কেন্দ্রের নির্দেশ মতো বুধবার মেটার প্রতিনিধিদল তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে শিশু-যৌন নিপীড়নমূলক বিষয়বস্তু রোধে মেটার ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোল হয় সরকারের তরফে। এই বিষয়ে যে সরকার উদ্বিগ্ন তাও জানানো হয়। এদিন তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের সচিব এস কৃষ্ণানের সঙ্গে বৈঠক করেন মেটার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলান এবং অন্য আধিকারিকরা। এই বৈঠক চলে ৪৫ মিনিট। সেখানে টাকার বিনিময়ে অপপ্রচারের উপর লাগাম টানার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে শীর্ষ আধিকারিকদের।
  • Link to this news (প্রতিদিন)