বুধবার দিল্লিতে নিজের বাসভবনে NDA–র নবনির্বাচিত ২৬ জন সাংসদের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সূত্রের দাবি, প্রায় একঘণ্টার বৈঠকে নিজের দীর্ঘ সংসদীয় রাজনীতির অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। পাশাপাশি একগুচ্ছ পরামর্শ দেন সাংসদদের। মোদী বলেন, ‘আপনারা এমন কিছু বলবেন না বা করবেন না, যার জন্য আপনি নিজেই পরে লজ্জিত হন৷ বিরোধীদের উপরে নিজের মতামত জোর করে চাপাবেন না, তাঁদের সঙ্গেও ভদ্র এবং নম্র ভাবে কথা বলুন। রাজনৈতিক মতাদর্শগত কারণে কোনও ব্যক্তি বিরোধী হওয়া মানেই তিনি আপনার শত্রু, এমনটা ভাববেন না’
সম্প্রতি NEET-র প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার বিরুদ্ধে ছাত্র-যুব সমাজের আন্দোলনের জেরে কিছুটা বেকায়দায় পড়তে হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারকে। যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুযোগ বাড়াতে তরুণ প্রজন্মের আরও কাছাকাছি যাওয়ার বিষয়েও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী৷ এমনকী, সাংসদদের বেশ কিছু ব্যাপারে সতর্ক করা হয়। নমো পরামর্শ দেন, ‘কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময়েও সতর্ক থাকবেন৷ সরকারি লেটারহেড সামলে রাখবেন৷ সংসদীয় অধিবেশনকে হাল্কা ভাবে নেবেন না, সংসদে ১০০ শতাংশ উপস্থিতি নিশ্চিত করুন। মাকড়সার জালে জড়িয়ে পড়বেন না৷ রাতে ভালো করে ঘুমোন৷ নিজেদের ব্যবহার সংযত রাখবেন।’
সদ্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি যোগদান করে রাজ্যসভার সদস্য হয়েছেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকও৷ তাঁরাও ছিলেন এ দিনের বৈঠকে। উল্লেখ্য, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশে মালদাকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত রাখার ক্ষেত্রে শিবেন্দুশেখর রায়ের (সুখেন্দুশেখরের বাবা) বড় ভূমিকা ছিল— মালদার জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর সেই বক্তব্য এ দিন আলাপচারিতার সময়ে উল্লেখ করেন সুখেন্দুশেখর৷
সূত্রের দাবি, নমো এই বৈঠকে বলেন, ‘আমি এর আগে বহুবার রায়সাহেবকে (সুখেন্দুশেখর) সংসদে বক্তৃতা দিতে দেখেছি৷ উনি কোনওদিন কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি৷ ওঁর থেকে এটা শিক্ষণীয়৷’ পরে ‘এই সময়’-কে সুখেন্দুশেখর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে ভাবে আমাকে সম্মান জানিয়েছেন, তাতে আমি ওঁর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ৷’
বিরোধীদের প্রতি খারাপ মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার জন্যেও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। অন্য দিকে, আলাপচারিতার সময়ে এক সাংসদ নমোর কাছে জানতে চান, এই বয়সেও তিনি এত ফিট থাকেন কী করে? তাঁর চোখমুখে এত ঔজ্জ্বল্য আসে কোথা থেকে? তাতে প্রধানমন্ত্রী জানান, যখন তিনি কার্যত সন্ন্যাস জীবন পালন করতেন, সেই সময়ে সত্তরের দশকে তিনি একবার কৈলাস মানস সরোবরে গিয়েছিলেন কয়েকজন সন্ন্যাসীর সঙ্গে৷ প্রচন্ড ঠান্ডা ও তুষারপাতের মধ্যে মুখমণ্ডলকে বাঁচানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে একটি আয়ুর্বেদ তেল মাখতে দিয়েছিলেন এক সন্ন্যাসী৷ এই তেল ব্যবহারের পাশাপাশি প্রতিদিন ভোরে ৪৫ মিনিট করে যোগাসন, পরিমিত নিরামিষ আহারও তাঁর ঔজ্জ্বল্যের রহস্য৷