• নিয়ম মানতে হবে সবাইকেই, মাইকবাজি বন্ধেও কড়া বার্তা পদ্মের
    এই সময় | ০৬ আগস্ট ২০২৬
  • মণিপুষ্পক সেনগুপ্ত

    তোলাবাজির পাশাপাশি এ বার মাইকবাজিতেও লাগাম টানতে চাইছে বিজেপি। তোলাবাজদের মতো মাইকবাজরাও আপাতত বিজে‍পির রাজ্য নেতৃত্বের আতশকাচের নীচে!

    রাজনৈতিক নেতাদের কর্মসূচি মানেই রাস্তার মোড়ে মোড়ে মাইক ফুঁকে তারস্বরে চিৎকার। তাতে সাধারণ মানুষের কান ঝালাপালা হলেও নেতাদের মাইকপ্রীতিতে ভাটা পড়ে না। অর্থাৎ, নেতার ঢাক পেটানোর আওয়াজে পথচলতি সাধারণ মানুষের কানের পর্দা ফাটলে ফাটুক, মাইক বন্ধ হবে না। সে বাজার এলাকা হোক বা আবাসন, হাসপাতাল হোক বা স্কুলের সামনে— মাইক সংস্কৃতিতে লাগাম টানা যায়নি বাম অথবা তৃণমূল জমানায়। তবে তোলাবাজি সংস্কৃতির মতো বাংলায় জাঁকিয়ে বসা এই মাইক সংস্কৃতিও এ বার বদলাতে চাইছে বিজেপি। কিন্তু বিচ্যুতি এ ক্ষেত্রেও রয়েছে। তোলাবাজির মতো মাইকের দাপাদাপিতেও নাম জড়িয়েছে রাজ্যের শাসকদলের কিছু নেতার!

    এমনিতে বাংলার রাজনীতিকদের বারো মাসে তোরো পার্বণ। শুধু ভোটের সময়ে নয়, বছরভর নেতাদের উদ্যোগে পাড়ায় পাড়ায় রক্তদান, বস্ত্রদান, গানের জলসার মতো অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। অনুষ্ঠান শুরুর অন্তত সাত দিন আগে থেকে আশপাশের সব লাইটপোস্টে মাইক বেঁধে চিল–চিৎকারই আপাতত বঙ্গ সংস্কৃতির অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব চাইছেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে মাইকের উৎপাত থেকে কিছুটা রিলিফ দিতে। বিজেপির এক রাজ্য নেতার কথায়, ‘রাজনীতির মাঠ থেকে তোলাবাজ আর মাইকবাজদের লাল কার্ড দেখাতেই হবে। না হলে রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের বিরক্তি আরও বাড়বে। মওকা পেলেই হলো, নেতারা মাইক বাজিয়ে নিজেদের জাহির করতে শুরু করেন। এতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে নেতাদের দূরত্ব আরও বেড়ে যাচ্ছে।’

    ক্ষমতায় আসার পরেই বিজেপি সিদ্ধান্ত নেয়, বাং‍লার মাইক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনবে তারা। কিন্তু অচিরেই পদ্মের রাজ্য নেতৃত্ব টের পান, তোলাবাজির ভাইরাসের মতো মাইকবাজির ভাইরাসও তৃণমূল থেকে বিজেপিতে সংক্রমিত হতে শুরু করেছে। তাই মাইক–সংক্রমণ ঠেকাতে বিজেপির রাজ্য দ‍প্তর থেকে জেলাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অপ্রয়োজনে মাইক বাজানো বন্ধ করতে হবে। বিজেপির এক রাজ্য সম্পাদকের মন্তব্য, ‘দলের কোনও জনসভায় মাইক বাজা‍নো যাবে, তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু সেই সভার সাত দিন আগে থেকে রেকর্ডেড ভয়েসে সেই সভার প্রচার শুরু হয়ে যায়। এ ছাড়াও নেতাদের উদ্যোগে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে মাইক বাজানোর প্রবণতা তো আছেই। জামানা বদলালেও মাইকের উপদ্রব কমেনি। আমাদের পার্টিরও কিছু নেতা এই দোষে দুষ্ট।’

    এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। তাঁর কথায়, ‘রক্তদান শিবির খুব ভালো উদ্যোগ। কিন্তু ৪৪ জন রক্ত দেবেন, আর তার জন্য ৪৪৪টা মাইক বাজবে, এটা চলতে পারে না।’ উদাহরণ দিয়ে শমীকের সংযোজন, ‘কারও মায়ের শ্রাদ্ধ। তাই মাইক বাজিয়ে সাত দিন ধরে অখণ্ড নাম সংকীর্তন চলছে। এটা তো ঘরের মধ্যেও করা যায়। ৪০টা মাইক বাজানোর তো দরকার নেই।’ মাইক–সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করে শমীকের স্পষ্ট বার্তা, ‘এর থেকে তো সমাজকে বেরোতে হবে। এগু‍লির পরিবর্তন করার জন্যই তো মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছেন।’ কোন কোন এ‍লাকায় মাইক বাজানোর প্রবণতা সব থেকে বেশি, তার ফিরিস্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘দমদম, নাগেরবাজার, পাইকপাড়া, রাজারহাট, বরাহনগর, কামারহাটির মতো এলাকায় অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, ‘আমরা মাইকের শব্দে অতিষ্ঠ। এ জিনিস চলতে পারে না। পরিবর্তন করতেই হবে।’ রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বুধবার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, কোথাও ৫০ ডেসিবেলের থেকে বেশি জোরে মাইক বাজানো যাবে না।’

  • Link to this news (এই সময়)