• তোলাবাজির অভিযোগ, ২২ জনকে ঘাড় ধাক্কা বিজেপির
    এই সময় | ০৬ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: তোলাবাজিতে নাম জড়ালে ঘাড় ধাক্কা খেতে হবে—এই বার্তা দলের সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে চাইছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। আর সে কারণেই তোলাবাজিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত দলের ২৫০ জনকে শো’কজ় করা হয়েছে বলে গেরুয়া শিবির সূত্রের খবর। এর মধ্যে ২২ জনকে ইতিমধ্যে সাসপেন্ডও করা হয়েছে। বিজেপির রাজ্য নেতাদের মতে, তোলাবাজির বিরুদ্ধে শীর্ষ নেতৃত্বের এই কঠোর মনোভাব দেখার পরে দলের অনেকেই সতর্ক হয়ে যাবে। রাজ্য প্রশাসনও তোলাবাজদের বিরুদ্ধে একইরকম সক্রিয়। এরই মধ্যে নিজেকে বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ট্রাক চালকদের কাছে তোলা আদায়ের অভিযোগে পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়া থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    গত ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পরেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছিলেন, তোলাবাজি কিছুতেই বরদাস্ত করা হবে না। শুধু শমীকই নন, একই সুরে তোলাবাজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন দিলীপ ঘোষ এবং অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁদের সঙ্গে মঙ্গলবার সুর মিলিয়েছেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং–ও। এমনকী, রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘও (আরএসএস) চাইছে, তো‍লাবাজি বন্ধ করতে বিজেপি এবং রাজ্য সরকার আরও বেশি সক্রিয় হোক। সূত্রের খবর, সঙ্ঘের তরফে এই বার্তা ইতিমধ্যেই রাজ্য বিজেপি দপ্তরে পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু নিছক মৌখিক সতর্কতায় কাজ হবে না বুঝেই দলের মধ্যে থাকা তোলাবাজদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছি‍ল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তারই ফলশ্রুতিতে দলের ২৫০ জনকে শো’কজ়ের চিঠি ধরিয়েছে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। যদিও এর মধ্যে ৮০ জনের ব্যাখ্যা যুক্তিগ্রাহ্য মনে হওয়ায় তাঁদের উপর শাস্তির খাঁড়া নামেনি। ২২ জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। বাকি ১৪৮ জনের ক্ষেত্রে দল এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানা গিয়েছে। তবে তোলাবাজির প্রবণতা দল থেকে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত শো’কজ় এবং সাসপেন্ডের প্রক্রিয়া চলতে থাকবে বলেও সূত্রের খবর। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘একটা শৃঙ্খলাপরায়ণ রাজনৈতিক দলে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়। কিন্তু সংবাদমাধ্যম যতটা বলছে ততটাও নয়। কিছু জায়গায় আমরা শো’কজ় করেছি। সামান্য কয়েকজনকে সাসপেন্ড–ও করেছি। তাঁদের বিরুদ্ধে বিচ্যুতির অভিযোগ ছিল।’

    তোলাবাজি নিয়ে গেরুয়া শিবিরের অন্দরে এই তৎপরতার মধ্যেই পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়া থানার চুরুলিয়া এলাকা থেকে এক তোলাবাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত রাকেশ মাঝি নামের ওই যুবক নিজেকে বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেন। যদিও রাকেশকে নিজেদের দলের কর্মী হিসেবে মানতে চাননি জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। পশ্চিম বর্ধমানের বিজেপির সহ–সভাপতি তাপস রায় বলেন, ‘কোনও তোলাবাজ বিজেপির সদস্য হতে পারে না। পুলিশ আইনি পদক্ষেপ করবে।’ অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরে জামুড়িয়ার মদনতোড় এলাকায় ট্রাক চালকদের কাছ থেকে তোলা আদায় করছিল রাকেশ। ওই যুবকের কাজকর্ম ভিডিয়ো–বন্দি করেন এক ট্রাকচালক। সোমবার সকালে সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে(ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ‘এই সময়’) দেখা গিয়েছে, ওই যুবক টাকা দাবি করে ট্রাক চালকদের বলছে, ‘এখন আর বালি ওভারলোড হয় না। তাই ট্রাক পিছু ২০০ টাকা করে তোলা দিতে হবে।’ ট্রাক চালকরা ওই যুবককে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর হুঁশিয়ারিও দেন। কিন্তু তাতে আরও বেপরোয়া হয়ে ওই যুবক পাল্টা দাবি করে, ‘পুলিশকে সব বলা রয়েছে।’ যদিও ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে দেরি করেনি। সোমবার অভিযুক্তকে আসানসোল আদালতে তোলা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

    উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন এলাকার অনেক বিজেপি কর্মীকে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে সাম্প্রতিককালে। এর মধ্যে হাড়োয়া বিধানসভা কেন্দ্রের তিন বিজেপি কর্মী আছেন। এ ছাড়াও উত্তর দমদমের ২ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি ‍পিঙ্কি পাল–সহ তিন বিজেপি নেতাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে বিজেপির উত্তর কলকাতা শহরতলির জেলা কিষাণ মোর্চার সাধারণ সম্পাদক শান্তনু ভট্টাচার্যকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)