এই সময়: বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণে জলীয় বাষ্পের প্রবেশ এবং অনুকূল বায়ুপ্রবাহের জেরে বুধবার দফায় দফায় প্রবল বৃষ্টিতে ভাসল দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গে ভারী (৭–১১ সেমি) থেকে অতিভারী (৭–২০) এবং কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের কোনও কোনও জায়গায় চরম ভারী (২০ সেমি–র বেশি) বৃষ্টির সাক্ষী থাকলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আলিপুর হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, আগামী কয়েক দিন রাজ্যের বেশির ভাগ জায়গায় বৃষ্টির এই দাপট অব্যাহত থাকবে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, ৮ অগস্ট পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি চলবে। আজ, বৃহস্পতিবার রাজ্যের উত্তর ও দক্ষিণ — দু’প্রান্তেই কয়েকটি জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি অক্ষরেখা বর্তমানে রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগর থেকে শুরু করে হরিয়ানার রোহতক, উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুর ও সুলতানপুর হয়ে বিহারের গয়া ও বাংলার বাঁকুড়ার উপর দিয়ে পূর্ব দিকে মিজোরাম অভিমুখে বিস্তৃত রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব বিহারের উপরে একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে সমুদ্র থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প প্রবেশ করায় বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ জোরদার হয়েছে। বুধবার বিকেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কলকাতায় ৬২ মিমি–র বেশি বৃষ্টি এই একাধিক ওয়েদার সিস্টেমেরই সম্মিলিত প্রভাব। দমদমে ৪৫ মিমি এবং সল্টলেকে ৫৫ মিমি বৃষ্টি হয়েছে।
হাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, মঙ্গল ও বুধবার উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। তবে কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের একাধিক এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির রেকর্ড হয়েছে। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের কয়েক জায়গায় চরম ভারী বৃষ্টি হয়েছে। অন্য দিকে, দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হলেও বীরভূমের নলহাটি–সহ কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, আজ, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের কিছু জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াও বইতে পারে।
অন্য দিকে, দক্ষিণবঙ্গে আজ, বৃহস্পতিবার বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং বাঁকুড়ায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। দক্ষিণবঙ্গের ১৫টি জেলার প্রতিটিতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।
কাল, শুক্রবার এবং শনিবারও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির রেশ বজায় থাকবে বলে জানাচ্ছেন আবহবিদরা। বিশেষ করে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমে কোনও কোনও এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। হাওয়া অফিস নাগরিকদের বজ্রবিদ্যুতের সময়ে খোলা জায়গায় না থাকার পরামর্শ দিয়েছে। প্রবল বৃষ্টির জন্যে নিচু জায়গায় জল জমে যাওয়া, যান চলাচলে বিঘ্ন এবং পাহাড়ি এলাকায় ধসের আশঙ্কাও রয়েছে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।