সুদেষ্ণা ঘোষাল, নয়াদিল্লি
বিহারের বাঁকিপুর এবং মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া কেন্দ্রের উপনির্বাচনে কেন হারতে হলো বিজেপিকে? কোথায় খামতি রয়েছে? গোষ্ঠীকোন্দল, প্রার্থী বাছাইয়ে ত্রুটি, সাংগঠনিক দুর্বলতা নাকি দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের প্রভাব? কোন কারণে বাঁকিপুর এবং দাতিয়ার মতো দু’টি আসন হাতছাড়া হয়েছে বিজেপির— খতিয়ে দেখবে সঙ্ঘ পরিবার, এমনটাই দাবি আরএসএস সূত্রের৷ সাধারণত কোনও রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন বা দেশের লোকসভা নির্বাচন সংক্রান্ত ফলাফলের চুলচেরা পর্যালোচনা করে সঙ্ঘ পরিবার, তার পরেই তৈরি হয় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা৷
নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিগত ১২ বছরের কার্যকালেও বার বার এমন পদক্ষেপ করেছে সঙ্ঘ পরিবার৷ এ বার বাঁকিপুর এবং দাতিয়ায় উপনির্বাচনের বিপর্যয়ের কারণও খতিয়ে দেখবেন আরএসএসের শীর্ষ পদাধিকারীরা৷ সূত্রের দাবি, এই দু’টি কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফল পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি দলের শীর্ষ স্তরকে আরএসএস জানিয়ে দিয়েছে, দ্রুত নির্বাচনী পরাজয়ের কারণ খতিয়ে দেখে বিজেপি যেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করে৷
প্রসঙ্গত, দাতিয়া এবং বাঁকিপুরের উপনির্বাচনে বিপর্যয়ের পরেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন জানিয়ে দিয়েছেন, এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়েই আগামীর রূপরেখা তৈরি করবে বিজেপি৷ তাঁদের দল হারের কারণও বিশ্লেষণ করবে৷ তার পরেও সঙ্ঘ পরিবার যে ভাবে এই দু’টি আসনের ভোট–ফলাফল কাটাছেঁড়া করছে, তাতে বিজেপির অন্দরে জল্পনা তুঙ্গে৷ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশের ধারণা, যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অপসারণ এবং দু’টি উপনির্বাচনে বিজেপির পরাজয়ের মধ্যে কোনও যোগসূত্র আছে কি না, সেটাই খতিয়ে দেখতে চাইছে সঙ্ঘ পরিবার৷
আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং পাঞ্জাবের বিধানসভা ভোট৷ তার আগে বিজেপির পায়ের তলার মাটি শক্ত করার জন্য সঙ্ঘ পরিবারের এই ভাবনা, এমন কথাও শোনা যাচ্ছে দিল্লির দীনদয়াল মার্গের বিজেপি সদর দপ্তরে।