• ‘প্রতীক’ বিতর্ক মিটলেই পরের পদক্ষেপ, বিদ্রোহী এমপি–দের একাংশ কি ভিড়বেন ঋতব্রত–শিবিরে
    এই সময় | ০৬ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: জোড়াফুলের ‘প্রকৃত’ প্রতিনিধিত্ব কাদের হাতে থাকবে, দেশের নির্বাচন কমিশন (ইসি) সেই সংঘাতের নিরসন করলেই এনসিপিআইয়ের ব্যানারে থাকা ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের আগামী দিনের রোডম্যাপ চূড়ান্ত হয়ে যাবে— মঙ্গলবার দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের উপস্থিতিতে হাইপ্রোফাইল বৈঠকে এটা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কমিশন কবে এই দ্বন্দ্বের নিষ্পত্তি করবে, তা খোলসা না হলেও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির জোড়াফুল প্রতীক পাওয়ার আশায় রয়েছে। দিল্লিতে শুভেন্দু, ভূপেন্দ্রর উপস্থিতিতে হওয়া এই বৈঠকে হাজির তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যতের রোডম্যাপ নিয়ে সম্ভাব্য কয়েকটি ফর্মুলার আভাস দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। সেই ফর্মুলা অনুযায়ী এনসিপিআইয়ের ব্যানারে থাকা কয়েকজন বিদ্রোহী সাংসদের আগামী দিনে ঋতব্রত শিবিরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    লোকসভার বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের টিমে থাকা খলিলুর রহমান, আবু তাহের এবং ইউসুফ পাঠান— এনডিএ অথবা বিজেপিতে যাবেন না, সে কথা প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন। বাকি ১৭ জনের মধ্যে সবাই যে ফের ভোটে দাঁড়াতে আগ্রহী হবেন, এমন না–ও হতে পারে। দিল্লিতে সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে সৌগত রায় একাধিক বার দাবি করেছেন, বিদ্রোহীদের মধ্যে যে সাংসদরা এনডিএ–র বৈঠকে যোগ দেননি, তাঁরা আবার কালীঘাট শিবিরে ফিরতে পারেন। আবার বিদ্রোহী একাধিক সাংসদ সৌগতর এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, বরং কালীঘাটের ছত্রচ্ছায়া থেকে বেরিয়ে আরও কয়েক জন সাংসদ তাঁদের দিকে আসতে পারেন। বিদ্রোহী সাংসদ শিবিরের এক নেতার কথায়, ‘খলিলুর রহমান, আবু তাদের খান ও ইউসুফ পাঠানের মতো যাঁরা সংখ্যালঘু প্রভাবিত এলাকা থেকে জয়ী হয়েছেন, তাঁরা আগামী দিনে এনসিপিআইয়ের ব্যানার থেকে বেরিয়ে অরূপ রায়, ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন তৃণমূলে এলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কমিশন যদি ঋতব্রতদের আসল তৃণমূলের স্বীকৃতি দেয়, তা হলে এই ফর্মুলা বাস্তবায়নে সমস্যা হবে না।’ এই শিবিরের আর এক নেতার বক্তব্য, ‘ইসি যদি অরূপ রায়, ঋতব্রতদের আসল তৃণমূলের বৈধতা দেয়, তা হলে মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদের পাশাপাশি আরও এক–দু’জন সংখ্যালঘু সাংসদ কালীঘাটের পাশ থেকে সরে যেতে পারেন। কালীঘাটের দিকে থাকা রাজ্যসভার একাধিক সাংসদও অবস্থান বদলাতে পারেন।’

    এনসিপিআইয়ের ব্যানারে থাকা ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ ছুড়েছে কালীঘাট শিবির। এই শিবিরের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বুধবার বলেন, ‘চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন এই ২০ জন সাংসদ। এনসিপিআই কী? এঁদের সাংসদ পদ খারিজ হওয়া উচিত। সংসদে এখনও এঁরা তৃণমূলের সাংসদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। নিজেদের এলাকায় ঢুকতে পারছেন না।’ জোড়াফুলের প্রতীক নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পাশাপাশি সংসদে ডিলিমিটেশন বিল পাশ হওয়ার উপরেও এনসিপিআইয়ের সাংসদদের আগামী দিনের রোডম্যাপ নির্ভর করছে বলে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের পর্যবেক্ষণ। এই শিবিরের এক নেতার কথায়, ‘ডিলিমিটেশন হলে রাজ্যে লোকসভা আসন সংখ্যা বেড়ে ৬৩ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এনসিপিআইয়ের ব্যানারে থাকা যে সাংসদরা সরাসরি বিজেপিতে যেতে চান, তাঁদের ট্রানজি়শন মসৃণ হবে। আপাতদৃষ্টিতে কালীঘাটের দিকে রয়েছেন, এমন কয়েকজন সাংসদও ডিলিমেটশন বিলের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।’ এনসিপিআইয়ের ব্যানারে থাকা বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের একাংশের আগামী দিনে গেরুয়া শিবিরে যোগদান অথবা টিকিট পাওয়া নিয়ে এখনই প্রকাশ্যে কোনও কমিটমেন্ট করছে না কেন্দ্রের শাসকদল। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বুধবার দিল্লিতে বলেছেন, ‘এই বিষয়টি আমার সিলেবাসের মধ্যে পড়ে না। এটা সম্পূর্ণ ভাবে আমাদের সংসদীয় বোর্ডের বিষয়। কলকাতা থেকে দিল্লির দূরত্ব ১৫০০ কিলোমিটার। ২০২৯ এখন অনেক দেরি রয়েছে। ডিলিমিটেশন হবে, আসন বাড়বে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে— এ সব অনেক পরের ব্যাপার। এর মধ্যে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে যাবে, দেখতে থাকুন।’

  • Link to this news (এই সময়)