এই সময়: রেলযাত্রীদের অভিযোগের তালিকায় এক নম্বরে থাকে খাবারের মান। কখনও পোকা, কখনও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার পরিবেশনের অভিযোগে বারবার রেলের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে পোস্ট করেন দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রীরা। রেল পাল্টা দাবি করে, 'উপযুক্ত ব্যবস্থা' নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আদৌ কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়? রাজ্যসভায় সেটাই খোলসা করলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
২০২২–২০২৫ — তিন বছরে ট্রেনে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন, অস্বাস্থ্যকর প্যান্ট্রি কার–সহ পরিষেবায় নানা গাফিলতির অভিযোগের তদন্ত করে বিভিন্ন ঠিকাদারি সংস্থাকে ৫.১৩ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে রাজ্যসভায় জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি লিখিত ভাবে মন্ত্রী জানান, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পরে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রিমিয়াম ও এক্সপ্রেস ট্রেনের খাবারের মান, প্যান্ট্রি কারের পরিচ্ছন্নতা ও যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যে ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস সাংসদ চন্দ্রকান্ত হান্দোরে। গত তিন বছরে রাজ্যভিত্তিক এবং রেলের জ়োনভিত্তিক অভিযোগের সংখ্যাও জানতে চান।
জবাবে অশ্বিনী বলেন, 'রেল বছরে গড়ে প্রায় ৫৮ কোটি যাত্রীকে খাবার পরিবেশন করে। এর মধ্যে গড়ে মাত্র ০.০০০৮ শতাংশ ক্ষেত্রে অভিযোগ জমা পড়ে। তদন্তে অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।' স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ খাবার দিতে রেল পদক্ষেপ করছে বলেও মন্ত্রী জানান। খাবার প্রস্তুতিতে নজরদারির জন্য বেস কিচেনগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। নিয়মিত পরিদর্শন, খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, সামগ্রিক ভাবে পরিষেবার মান বজায় রাখে কড়া নজরদারি, মূল্যায়ন ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা জারি থাকবে।