এই সময়, পুরুলিয়া: যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হলেন সিপিআই মাওবাদীর তিন শীর্ষ স্কোয়াড সদস্য। পুলিশ সূত্রের খবর, মঙ্গলবার গভীর রাতে ঝাড়খণ্ডের সরাইকেলা-খরসওয়া জেলার কান্ডরা থানা এলাকার উদয়পুর গ্রাম থেকে প্রথমে আটক করা হয় সংগঠনটির সাব জ়োনাল কমান্ডার সাগর সিংহ ওরফে বীরেনকে। তাঁর কাছ থেকে ওয়াকিটকি, অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী চান্ডিল থানার কাঁদেরবেড়া গ্রামে তল্লাশি চালিয়ে গ্রেপ্তার করে মাওবাদীদের রিজিওনাল কমিটির নেতা মদন মাহাতো ওরফে শঙ্কর এবং অন্য এক সাব জ়োনাল কমান্ডার মীরা পাহাড়িয়া ওরফে মিনাকে। ধৃত তিন জনই দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য ও ঝাড়খণ্ড পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় ছিলেন। পরে তাঁদের চৌকা থানায় কড়া নিরাপত্তায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ধৃত মদন মাহাতোর বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি থানার কর্মাশোলে। অন্য দিকে, বীরেনের বাড়ি সরাইকেলার নিমডির বেনাডিতে এবং মীরার বাড়ি পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি থানার আমকোচা গ্রামে। চলতি বছরেই দেশকে মাওবাদীমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র। ফলে বিভিন্ন রাজ্যে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান আরও তীব্র হয়েছে। জানুয়ারিতে সারান্ডার জঙ্গলে বাহিনীর অভিযানে ১৫ জন মাওবাদীর মৃত্যুর পরে বাকিরা ডেরা ছেড়ে ঝাড়খণ্ডের দলমা রেঞ্জের জঙ্গলে পালিয়ে আসে। গোয়েন্দাদের দাবি, সেই দলেই ছিলেন মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ।
২০১১-য় রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে জঙ্গলমহলের বেশিরভাগ মাওবাদী সদস্যই ঝাড়খণ্ডে গিয়ে দলমা রেঞ্জে আশ্রয় নেন, আবার অনেকেই সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে চারু মজুমদারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত শহিদ সপ্তাহের আগে বান্দোয়ান সীমানা লাগোয়া জঙ্গলে ফের নতুন করে তাঁদের সক্রিয়তার খবর পান গোয়েন্দারা। বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান ও আত্মসমর্পণের ফলে সংগঠনে সদস্য সংখ্যা আশঙ্কাজনক ভাবে কমে আসছিল। গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, সেই পুরোনো জনভিত্তি কাজে লাগিয়ে নতুন করে সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যেই এই তিন স্কোয়াড সদস্য কান্ডরা ও চান্ডিল এলাকায় এসেছিলেন। অন্য একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, অতীতে আত্মসমর্পণ করা এক প্রথম সারির মাওনেতার মাধ্যমে এখন সংগঠনের বাংলা কমিটির দায়িত্বে থাকা আকাশকে দিয়েও আত্মসমর্পণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।