বারাসতের রাস্তায় জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, বিধায়ক! তিন কর্তা দিলেন চরম হুঁশিয়ারি
News18 বাংলা | ০৬ আগস্ট ২০২৬
বারাসাত শহরের অন্যতম ব্যস্ততম কে.এন.সি. রোডে ফুটপাত ও রাস্তার অবৈধ দখলদারি নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল জেলা প্রশাসন। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক, বারাসাত পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার এবং বারাসাতের বিধায়ক যৌথভাবে এলাকাটি পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
পরিদর্শনের সময় রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। প্রশাসনের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রাস্তার ধারে বহু দোকানদার নিজেদের ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য দোকানের সামগ্রী ফুটপাত ছাড়িয়ে রাস্তার উপর পর্যন্ত সাজিয়ে রেখেছেন।
পাশাপাশি ফুটপাতের বড় অংশ জুড়ে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী দোকান, স্টল ও হকারদের বসার জায়গা। ফলে পথচারীদের ফুটপাত ব্যবহার করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষকে ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, যার ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে রাস্তার প্রস্থ কমে যাওয়ায় যানজটও তীব্র আকার ধারণ করছে।
পরিদর্শনের সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, ফুটপাত ও রাস্তা সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য। তাই কোনওভাবেই সরকারি জায়গা দখল করে ব্যবসা চালাতে দেওয়া হবে না। অবৈধ দখলদারির বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে এবং প্রয়োজনে উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হবে। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কে.এন.সি. রোডে ফুটপাত দখল, রাস্তার উপর দোকান বিস্তার এবং অনিয়ন্ত্রিত হকার সমস্যার কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া, প্রবীণ নাগরিক ও মহিলাদের নিরাপদে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাসিন্দাদের আশা, প্রশাসনের এই যৌথ উদ্যোগ শুধুমাত্র পরিদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে কে.এন.সি. রোডকে স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত করা সম্ভব হবে। এতে যেমন যান চলাচল স্বাভাবিক হবে, তেমনি পথচারীদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন শহরবাসী।