: বর্ষার মরশুমে সম্ভাব্য বন্যা, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদার করতে বিশেষ উদ্যোগ নিল মালদহ জেলা প্রশাসন। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে মালদহ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা। এ উপলক্ষে জেলা শাসক ও পুলিশ সুপার যৌথভাবে জেলার দুর্যোগ-প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন। পরিকল্পনায় ব্লক ও পুরসভা ভিত্তিক ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিবছর গঙ্গা ও ফুলহার নদীর জলস্তর বৃদ্ধির ফলে রতুয়া, মানিকচক, কালিয়াচক-২, কালিয়াচক-৩ এবং বিশেষ করে ভুতনি দ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যা ও নদীভাঙনের কবলে পড়ে। ফলে লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল বলেন, “অতিবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ত্রাণসামগ্রী, গবাদি পশুর খাদ্য, স্পিডবোট, লাইফ জ্যাকেট সহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
অতিরিক্ত জেলাশাসক অনিন্দ্য সরকার জানান, “এই পরিকল্পনায় ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা, সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত জনসংখ্যা এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণকক্ষ, দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল, নিরাপদ সরণপথ, বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র, ত্রাণশিবির, নৌকা ও যানবাহনের ব্যবস্থা, চিকিৎসা পরিষেবা, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”
প্রশাসনের দাবি, এই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার মাধ্যমে সময়মতো সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া, দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনা, জরুরি পরিষেবা সচল রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া আরও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনও উদ্ধার, নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, ত্রাণশিবিরের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।