• আপাতত গ্রেপ্তার নয় অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
    এই সময় | ০৬ আগস্ট ২০২৬
  • আপাতত গ্রেপ্তার করা যাবে না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়কে। অন্তবর্তী রক্ষাকবচ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। তবে তদন্তে যোগ দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে বলেছে দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত এই রক্ষাকবচ বহাল থাকবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে উপস্থিত হতে হবে সুমিত রায়কে।

    এ দিন সুমিত রায়ের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ। রাজ্য সরকারের তরফে ছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। এ দিন শুনানি চলাকালীন বিচারপতি বাগচী জানতে চান, কী অভিযোগ সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে? আইনজীবী শঙ্করনারায়ণ বলেন, ‘ক্যাশ ফর জব স্ক্যাম। আমার মক্কেলকে প্রোটেকশন দেওয়া হলে তদন্তে সহযোগিতা করবেন।’

    আদালতে তুষার মেহতা জানান, আগামিকাল (শুক্রবার) শুনানি করা হোক। তিনি এখনও সব পেপার দেখার সময় পাননি। পাল্টা সুমিতের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ বলেন, ‘২০২১ সালের ঘটনা। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এফআইআর করা হয়েছে। একটা সামান্য পিএ-র ম্যাটারের জন্য সলিসিটর জেনারেলকে আর্গু করতে হচ্ছে?’ মেহতা জানান, তিনি সব উত্তরই দেবেন। শুধু পেপার দেখার জন্য একটা দিন সময় দিক কোর্ট।

    এ দিন তুষার মেহতা আদালতে বলেন, ‘যখন এই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে যাওয়া হয়েছিল, তখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আবার বাধাদান করেছেন। আগেও উনি একই কাজ করেছেন।’ বিচারপতি বাগচী জানতে চান, ‘এটা কি টিপ অফ দ্য আইসবার্গ?’ মেহতা জানান, ‘অবশ্যই। আমাদের বলার সুযোগ দেওয়া হোক৷ ইনি প্রভাবশালী৷’

    সুমিত রায়ের নামে একাধিক থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সরকারি জমি বিক্রিতে অভিযুক্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক। পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায়ও টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ সংক্রান্ত মামলা রয়েছে।

    সুমিতের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায়। সেবাশ্রয় চলাকালীন এক রিসর্ট মালিককে চাপ দিয়ে ঘর আটকে রাখার অভিযোগ করেন ওই রিসর্ট মালিক। সেই মামলায় বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই তাঁর বাড়িতে হানাও দিয়েছে।

    তবে শালবনি থানায় অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই বেপাত্তা সুমিত। এ দিকে তাঁকে নাগালে পেতে জারি করা হয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। এই আবহে আগাম জামিনের আর্জি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে গিয়েছিল সুমিত রায়। সেখানে ডেবরার মামলায় আগাম জামিনের আর্জি মঞ্জুর হলেও, শালবনির কেসে হয়নি। এর পরেই সুপ্রিম কোর্টে যান সুমিত। সেই জমি মামলায় এ দিন অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

  • Link to this news (এই সময়)