• কাগজের দুর্গার পর এবার অ্যালুমিনিয়ামের ৫ ফুটের গণেশ! অবসর নিতেই বাজিমাত শিলিগুড়ির বৃদ্ধের
    News18 বাংলা | ০৬ আগস্ট ২০২৬
  • : অবসর জীবনের অর্থ অনেকের কাছেই একাকীত্ব ও সময় কাটানোর লড়াই। কিন্তু সেই ধারণাকে ভেঙে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শিলিগুড়ির দেশবন্ধুপাড়ার বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী অনুপ দাস। কর্মজীবনের ইতি টানার পর নিজের বহুদিনের শিল্পচর্চাকেই নতুন করে জীবনের সঙ্গী করে তুলেছেন তিনি। অ্যালুমিনিয়াম নেট ও ধাতব পাত দিয়ে তৈরি করেছেন শিলিগুড়ির প্রথম অ্যালুমিনিয়ামের গণেশ মূর্তি, যা ৫ ফুটের এবং ইতিমধ্যেই কৌতূহল ও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

    পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদের সরকারি কর্মচারী। প্রায় দুই বছর আগে অবসর নেওয়ার পর হঠাৎ করেই জীবনের ছন্দ বদলে যায়। ঘরের নিত্যদিনের কাজের পরও সময় যেন কাটছিল না। তখনই বহুদিনের শিল্পীসত্তাকে আবার জাগিয়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন। সেই ভাবনা থেকেই অ্যালুমিনিয়াম নেট ও বিভিন্ন ধাতব উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি করেন সিদ্ধিদাতা গণেশের ব্যতিক্রমী প্রতিমা, যা শিলিগুড়িতে এই ধরনের প্রথম উদ্যোগ বলেই তিনি দাবি করেন।

    এর আগেও কাগজের দুর্গা প্রতিমা তৈরি করে প্রশংসা অর্জন করেছিলেন অনুপবাবু। এবার তিনি ধাতব শিল্পকে নতুন মাত্রা দিতে আরও বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন। তাঁর লক্ষ্য, আধুনিক শিল্পভাবনা ও ঐতিহ্যকে একসঙ্গে মিশিয়ে এমন প্রতিমা তৈরি করা, যা শুধু পুজোর মণ্ডপেই নয়, শিল্পকর্ম হিসেবেও মানুষের কাছে সমাদৃত হবে। অনুপ দাস বলেন, “অবসর মানেই জীবন থেমে যাওয়া নয়। নিজের প্রতিভাকে কাজে লাগালে অবসর জীবনও সুন্দরভাবে কাটানো সম্ভব। আমি অ্যালুমিনিয়ামের গণেশ তৈরি করেছি, ভবিষ্যতে আরও নতুন কাজ করতে চাই। আমার মতো যাঁরা অবসর নিয়েছেন, তাঁদেরও অনুরোধ করব নিজের পছন্দের কোনও কাজে যুক্ত থাকতে। তাতে একাকীত্ব দূর হবে, মনও ভাল থাকবে।” পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ক্লাব ও সামাজিক সংগঠনের কাছে তাঁর এই শিল্পচর্চায় সহযোগিতার আবেদন জানান।

    অনুপবাবুর মতে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য শুধু প্রতিমা তৈরি নয়, বরং সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়া। তিনি চান, বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন তাঁর তৈরি প্রতিমার বুকিংয়ের মাধ্যমে এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে আসুক। অর্থের চেয়ে শিল্পের স্বীকৃতি ও মানুষের ভালোবাসাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁর বিশ্বাস, সমাজের সহযোগিতা পেলে এই শিল্পচর্চাকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

    অবসরের পর নতুন স্বপ্ন দেখার এই গল্প আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা। একঘেয়েমিকে হারিয়ে নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে অনুপ দাস প্রমাণ করে দিয়েছেন, ইচ্ছাশক্তি আর সৃষ্টির আনন্দ থাকলে জীবনের নতুন অধ্যায়ও হতে পারে সমান উজ্জ্বল। তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শুধু শিল্পের নয়, অবসরজীবনকে নতুনভাবে বাঁচারও এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
  • Link to this news (News18 বাংলা)