• ধর্ষণ মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড তরুণ তেজপালের, সুপ্রিম কোর্টে গেলেন ‘তেহলকা’র প্রতিষ্ঠাতা
    এই সময় | ০৬ আগস্ট ২০২৬
  • ধর্ষণ মামলায় ‘তেহলকা’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক তরুণ তেজপালকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিল বম্বে হাইকোর্ট। 

    শাস্তি নিয়ে শুনানির পরে উচ্চ আদালত জানায়, ২০১৩ সালের ঘটনার পরে তেজপালের বিরুদ্ধে অসদাচরণের নতুন কোনও অভিযোগ ওঠেনি। আর উভয় পক্ষই এখন নিজের নিজের জীবনে এগিয়ে গিয়েছেন। তবে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তেজপালকে ভারতীয় দণ্ডবিধির দু’টি ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হলো। হাইকোর্টের এই আদেশে এক সপ্তাহের অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তেজপাল।

    সকালে আদালত যখন রায় ঘোষণা করে, তখন এজলাসেই ছিলেন তেজপাল। সেই সময়ে তিনি বিচারপতিদের উদ্দেশে শাস্তি লঘু করার আবেদন জানান। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার বয়স ৬২। আমি নিজেকে ভিকটিম বলেই মনে করি। আমার স্ত্রী রয়েছেন। এর বাইরে নতুন করে কিছু বলার নেই। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে যেতে পারি। দয়া করে আমার প্রতি সহানুভূতিশীল হন এবং লঘুদণ্ড দিন।’

    তরুণের আইনজীবী আবাদ পোন্ডাও সাজার মেয়াদ কমানোর আবেদন জানিয়েছিলেন। তিনিও বলেন, ‘ঘটনা ১৩ বছরেরও বেশি পুরোনো এবং এর মাঝে তেজপালের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়নি। তাই সাজা ঘোষণার সময়ে আদালতকে নমনীয় মনোভাব দেখানোর আবেদন করছি।’ এ ছাড়া, হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানোর জন্য শাস্তি কার্যকর উপরে অন্তত ৮ সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দেওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছিলেন তেজপালের আইনজীবী।

    এই আর্জির বিরোধিতা করেন গোয়া সরকারের হয়ে দাঁড়ানো কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি বলেন, ‘নির্যাতিতা তরুণ তেজপালের মেয়ের বয়সি। তা সত্ত্বেও তিনি অপরাধ করেছেন। নির্যাতিতা বার বার নিষেধ করেন। তা সত্ত্বেও তাঁকে রেহাই দেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় একটা দৃষ্টান্ত তৈরি হওয়া প্রয়োজন। স্পষ্ট বার্তা দেওয়া প্রয়োজন যে, যখন কোনও মেয়ে না বলে, তখন তার মানে না-ই হয়। তাই এই মামলায় কোনও সহানুভূতি দেখানো উচিত না।’

    ২০১৩ সালে গোয়ায় একটি সম্মেলন চলাকালীন এক মহিলা সহকর্মীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠে তরুণের বিরুদ্ধে। নির্যাতিতা অভিযোগ করেন, গোয়ার এক হোটেলের লিফটে তাঁকে যৌন হেনস্থা করা হয়। গোয়া পুলিশের কাছে এফআইআর হয়। ২০১৩ সালে গ্রেপ্তার হন তরুণ। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে জামিনও পান। ২০১৭ সালে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। ২০২১ সালে সেই মামলায় রেহাই পান তিনি। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয় গোয়া সরকার। বৃহস্পতিবার ধর্ষণ মামলায় তরুণকে দোষী সাব্যস্ত করে বম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চ।

  • Link to this news (এই সময়)