• দুর্নীতির অভিযোগ জানাতে শুরু হল হেল্পলাইন নম্বর
    আজকাল | ০৬ আগস্ট ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই আরও জোরদার করতে বিশেষ উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ডিরেক্টরেট অফ অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চ। সাধারণ মানুষের অভিযোগ গ্রহণ, দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ এবং সরকারি পরিষেবায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন ওয়েবসাইট চালু করেছে সংস্থা।

    অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও সরকারি আধিকারিক বা কর্মী যদি ঘুষ দাবি করেন, ঘুষ দিতে বাধ্য করেন অথবা সরকারি কাজে দুর্নীতির কোনও ঘটনা সম্পর্কে কারও কাছে তথ্য থাকে, তাহলে তা দ্রুত জানানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে।

    অভিযোগ জানানোর জন্য একটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর এবং ই-মেল আইডি প্রকাশ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ 9836233891 নম্বরে ফোন করে অথবা acb-wb@nic.in ই-মেল ঠিকানায় দুর্নীতির অভিযোগ জানাতে পারবেন।

    সংস্থার তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, অভিযোগকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি ব্যবস্থায় সততা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

    নতুন ওয়েবসাইটে সাধারণ মানুষকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারি কোনও কাজের জন্য ঘুষ চাওয়া হলে বা কোনও অনিয়মের ঘটনা নজরে এলে তা জানাতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সম্প্রতি একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ৩ অগস্ট তিনজন আইপিএস অফিসার এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার ১৬ জন পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীকে এই শাখায় নিয়োগ করা হয়েছে।

    প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, বিভিন্ন জেলা থেকে উঠে আসা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে সরকারি কাজের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কেউ টাকা নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই একে নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে।

    রাজ্যের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ গ্রহণের জন্য একাধিক কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে এবং চারটি টোল-ফ্রি নম্বরও চালু করা হয়েছে।

    এবার সেই উদ্যোগের আরও একটি ধাপ হিসেবে অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, সাধারণ মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সরকারি পরিষেবায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা।
  • Link to this news (আজকাল)