দীক্ষা ভুঁইয়া: পশ্চিমবঙ্গে বস্ত্রশিল্পকে ঘিরে নতুন শিল্পায়নের রূপরেখা তুলে ধরল রাজ্য সরকার। কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে বস্ত্রশিল্প প্রদর্শনী ও সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে একাধিক নীতিগত সংস্কার করা হচ্ছে। বিশেষ করে ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দ্রুত অনুমোদন, নতুন ভূমি নীতি এবং শিল্পবান্ধব প্রশাসনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শিল্পপতিদের আর স্থানীয় পুরসভা বা পঞ্চায়েতের বিভিন্ন স্তরে অনুমোদনের জন্য ঘুরতে হবে না। রাজ্য সরকারের ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম’-এর মাধ্যমেই সমস্ত প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেওয়া হবে। পাশাপাশি জমি ক্রয় নীতি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই নতুন ভূমি উন্নয়ন নীতিও আনা হবে। প্রয়োজনে বিধানসভায় আইন সংশোধন করে শিল্প স্থাপনের প্রক্রিয়া আরও সহজ করার আশ্বাসও দেন তিনি।
শিল্প বিনিয়োগের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই লাক্স কোজি, আমুল, শ্যাম স্টিল এবং অমিত মেটালিক্স-সহ একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠী রাজ্যে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্যাবিনেট বৈঠকের পর আগামী এক মাসের মধ্যে অন্তত ২৫ জন শিল্পপতির হাতে নতুন শিল্প প্রকল্পের জন্য জমি তুলে দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।
কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ২৮ আগস্ট কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর রাজ্য সফরের সময় বস্ত্রশিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁর একটি বৈঠকেরও আয়োজন করা হবে, যাতে শিল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি আলোচনা সম্ভব হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বস্ত্রশিল্পে বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে এবং রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী তাঁত ও পোশাক শিল্পকে আধুনিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করাই সরকারের লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক সংস্কার, দ্রুত অনুমোদন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম বস্ত্রশিল্প কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার।