BJP-র দেদার তোলাবাজি! ১৫ দিন ডেডলাইন দিয়েছিলেন শমীক, কী কী অ্যাকশন নেওয়া হচ্ছে?
আজ তক | ০৬ আগস্ট ২০২৬
২০২৬ বিধানসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তোলাবাজি, দুর্নীতি ও কাটমানির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তার উপর ভর করেই মে মাসের ৪ তারিখ 'বাংলা' জয় করেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর আজ মাত্র আগাস্ট মাস। এর মধ্যেই রাজ্যে বিজেপির নেতাকর্মীরা তোলাবাজি শুরু করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠছে।
আর এই তথ্য পৌঁছে গিয়েছে দলের শীর্ষ স্তরেও। যার ফলে বারবার বিষয়টা নিয়ে দলের কর্মীদের সতর্ক করে এসেছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বিজেপি যে তোলাবাজির ক্ষেত্রে 'জিরো টলারেন্স' নীতি নিয়েছে, সেটা একাধিকবার বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। এমনকী দিয়েছিলেন শুধরে যাওয়ার 'ডেডলাইন'।
কিন্তু সেই কথা নিশ্চয়ই কানে যায়নি অনেকের। তাই অবশেষে তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগে ২২ জন কর্মীকে সাসপেন্ড করল গেরুয়া শিবির। পাশাপাশি অনেকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আর তাতেই বোঝা যাচ্ছে, শুধু সতর্ক করেই চুপ করে বসে থাকেননি শমীক। বরং প্রয়োজন মতো নিয়েছেন ব্যবস্থা।
'একাধিপত্তের পতন হয়'
বিজেপি নেতারা তোলাবাজি করছে, এহেন কথা কানে তোলার পর থেকেই সরব হয়েছেন শমীক। তাই দলীয় নেতাকর্মীদের ডিম থেরাপি নিয়ে সতর্ক করেন তিনি। তাঁর কথায়, 'পৃথিবীতে সমস্ত একদলীয় একাধিপত্তের পতন হয়। আজ আমরা ২০৭, এই শরীরী ভাষা নিয়ে যদি আমাদের দলের কেউ নেমে পড়ে, তাহলে পরিণতি কিন্তু অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে। যেভাবে ডিম থেরাপি শুরু হয়েছে, সেই ডিম ঘুরে অন্যদিকেও পড়তে পারে। ডিমের অভিমুখ বদলে যেতে বেশিক্ষণ সময় লাগবে না।'
আবার একটি অনুষ্ঠানে দলের তৃণমূলীকরণ নিয়ে বার্তা দেন রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, 'মানুষ এই দলটার তৃণমূলীকরণ হোক দেখতে চায় না। চার ঘণ্টার বিজেপি দেখতে চায় না। আমাদের দলের কিছু কিছু মানুষ তৃণমূলীদের নিয়ে ঘুরতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ আবার কে কোন মিউনিসিপ্যালিটিতে, কোন ওয়ার্ডে প্রার্থী হবেন, সেটা ঠিক করে ফেলেছেন। সেই গুড়ে বালি নয়, সেই গুড়ে বোল্ডার।'
'১৫ দিন সময় দিচ্ছি...'
দলের একাংশ যে তোলাবাজি করছে সেটা জেনে নিয়েই ডেডলাইন দেন শমীক। তিনি বলেন, 'আমাদের দলের নাম নিয়ে কিছু মানুষ তোলাবাজির চেষ্টা চালাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কঠোর হাতে প্রশাসনিক স্তরে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমরা সাংগঠনিক স্তরেও ব্যবস্থা নিচ্ছি। বিচ্যুতি দুই-এক জায়গায় আছে। এই বিচ্যুতি সবসময় মানা যাবে না। সরকার এক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। আরও ১৫ দিন দেখছি আমরা, তারপর যা হবে দেখতে পারবেন।'
কী ব্যবস্থা নিল বিজেপি?
বর্তমানে গেরুয়া শিবির ২৫০ জনকে শোকজ করেছে। এদের মধ্যে ১০২ জনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে দল। ৮০ জনের উত্তর গ্রহণযোগ্য হয়েছে। তাই তাঁদের শোকজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ২২ জনের কাছ থেকে গ্রহণযোগ্য সদুত্তর না মেলায় তাঁদের ইতিমধ্যে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়, এরপর আরও অ্যাকশন নেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে বিজেপি সূত্রে।