• ১৫ হাজার ফোন, ১৬ মৃত্যু! হরমুজের হাহাকারে ভারতীয় নাবিকদের বাঁচাতে কী করছে মোদি সরকার?
    প্রতিদিন | ০৬ আগস্ট ২০২৬
  • মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি। মাঝে ক’দিন সংঘর্ষবিরতি হলেও নতুন করে আমেরিকা-ইরান ধুন্ধুমার শুরু হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের জ্বালানির ধমনী হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধই রয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে দেশে জ্বালানি-সহ অন্যান্য জরুরি পণ্যের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্র। অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে ভারতমুখী ৬০টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার করেছে। বিপজ্জনক উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ৩,৯৭২ জন ভারতীয় নাবিককে। যুদ্ধের মধ্যেও কীভাবে গোটা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে, বৃহস্পতিবার সংসদে জানাল মোদি সরকার।

    জাহাজ মন্ত্রক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছিল। ওই কন্ট্রোল রুমে নাবিক এবং তাঁদের পরিবারের লোকেদের কাছ থেকে ১৫,৭৭১টি ফোন এবং ৩৬,৪৯৯টি ইমেল এসেছে। এইসঙ্গে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ১৬ জন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন নাবিক। ‘সিফেয়ারার্স ওয়েলফেয়ার ফান্ড সোসাইটি’-র মাধ্যমে মৃত নাবিকদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে।

    কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী সমুদ্রযাত্রার ক্ষেত্রে ভারতীয় নাবিকদের নতুন করে নিয়োগ দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়। নাবিক এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রাখা হয়েছে। ওয়েলফেয়ার কাউন্সেলর তথা মনোবিদদের সাহায্য নেওয়া হয় নাবিকদের জন্য। প্রয়োজন মতো নাবিক ও তাঁদের পরিবারদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন অভিজ্ঞ মনোবিদেরা। আপাতকালীন অবস্থায় ডিজি কমিউনিকেশন সেন্টার (এমএমডিএসি)-ও সর্বক্ষণ প্রস্তুত ছিল নাবিকদের সাহায্যের জন্য।

    প্রসঙ্গত, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে একদিকে যেমন জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করেছে দিল্লি, অন্যদিকে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। ইরান, আমেরিকা ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বারবার ফোনে কথা বলেন বিদেশমন্ত্রী জয়শংকর, এমনকী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। সেই প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলেই জানা গিয়েছে কেন্দ্রের সূত্রে। আমেরিকা-ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ, হরমুজের পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে ভারত সরকার। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)