• শান্তিনিকেতনের সোনাঝুড়ি হাটও চুরি! ব্যবসায়ীদের ‘বাড়বাড়ন্ত’ রুখতে অভিযানে বনদপ্তর
    প্রতিদিন | ০৬ আগস্ট ২০২৬
  • পরিবেশ আদালতে মামলা, তবু সোনাঝুরি জঙ্গলে ‘দখল’! গাছের নীচে ইট, পাথরের চাতাল, ফের কাঠগড়ায় শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হাট। গাছের ছায়ায় ‘দখল’দারি, সোনাঝুরি হাটে ফের পরিবেশের প্রশ্ন। বুধবার, হাট ব্যবসায়ীদের মধ্যে জায়গা চিহ্নিত করার অভিযোগ ঘিরেই বচসা, তর্ক বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ, জঙ্গলের গাছের নীচে ইট-পাথর দিয়ে চাতাল বানিয়ে ব্যবসার জায়গা ‘দখল’ ও চিহ্নিত করার চেষ্টা! আপত্তি জানান বনদপ্তরের কর্মীরা সহ স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় ঘটনাস্থলে পৌঁছয় শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ ও বনদপ্তরের কর্মীরা।

    বোলপুরের বনদপ্তরের আধিকারিক জ্যোতিষ বর্মন জানান, “বনদপ্তরের জায়গায়, বিশেষত গাছের নীচে ইট দিয়ে চাতাল কোনওভাবেই কাম্য নয়। ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে শুধু ইটের চাতাল নয়, সোনাঝুরি হাটকে ঘিরে পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের তালিকাও দীর্ঘ। গাছের ক্ষতি, জঙ্গলের মধ্যে অবাধে চারচাকা গাড়ি ঢোকানো, প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহার, অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় কংক্রিট নির্মাণ সহ একাধিক অভিযোগ নিয়ে পরিবেশ আদালতে মামলা চলছে।

    পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্তের দাবি, “বনদপ্তরের জমিতে বন সুরক্ষা আইনকে উপেক্ষা করেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ।” অন্যদিকে হাট কমিটির দাবি, কয়েকজন ব্যবসায়ী শুধুমাত্র দোকানের জায়গা চিহ্নিত করার জন্য ইট পাথর রেখেছিলেন। বনদপ্তরের আপত্তির পর তা সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। জঙ্গলের ক্ষতি কোনও ভাবেই প্রশ্রয় দেয়না হস্তশিল্পীদের হাট কমিটির সদস্যরা।

    প্রসঙ্গত, প্রায় ২০০০ সালে স্থানীয় কয়েকজন আদিবাসী শিল্পীর হাতে সপ্তাহে একদিনের ছোট্ট হাট হিসেবে শুরু। ২০১৬-১৭ সালের পর থেকেই তার ব্যাপক বিস্তার। এখন সারা বছর পর্যটকের ভিড়ে জমজমাট সোনাঝুরি। কিন্তু সেই জনপ্রিয় হাটই এখন পরিবেশের কাছে প্রশ্নচিহ্ন। বোলপুর বিজেপি যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক অরুণ দাসের অভিযোগ, “অনেক ব্যবসায়ী জায়গা চিহ্নিত করার জন্য গাছের নীচে ইট-পাথর দিয়ে বাঁধিয়ে রেখেছেন।

    বনদপ্তর ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, গাছের নীচে কোনওভাবেই বাঁধানো যাবে না। হাটের পরিবেশ এবং বিশেষত সোনাঝুরি জঙ্গলের ক্ষতি কোনওভাবেই কাম্য নয়।” সোনাঝুরি হাট নিয়ে পরিবেশ আদালতে মামলা চলায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে হাটের পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও। ফলে সোনাঝুরির সবুজ বাঁচিয়েই হস্তশিল্পীদের হাটের ভবিষ্যৎ এখন চ্যালেঞ্জের।
  • Link to this news (প্রতিদিন)