তুমুল বৃষ্টি। তবে বুধবার ধর্মতলার রানি রাসমনি রোডের জনসমাগম দেখলে তা বোঝার উপায় নেই। কখনও ছন্নছাড়া, কখনও পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার মতো অবস্থা। কিন্তু এসইউসিআইয়ের সমাবেশ শৃঙ্খলাপরায়ণতার সেরা নিদর্শন হিসেবে নিঃসন্দেহে ভিন্নতর নজির রাখল। বৃষ্টি মাথায় করে জনসমাবেশের হাজির ছাত্র-যুব থেকে প্রবীণ নাগরিকদের উদ্দেশে এসইউসিআইয়ের রাজ্য সম্পাদক প্রভাস ঘোষ তখন রীতিমতো গরমাগরম ভাষায় বক্তব্য রাখছেন। তাঁর নিশানায় সিপিএম। বললেন, ‘‘সিপিএম, সিপিআই বামপন্থী বলে মনে করি না। ওরা মার্কসবাদ বিসর্জন দিয়েছে।” তবে ভবিষ্যতে বিজেপি বিরোধিতায় রাজনৈতিক জমি শক্ত করতে বৃহত্তর বাম ঐক্যের ডাক দিয়েছেন প্রভাস ঘোষ।
বুধবার ঘড়িতে সময় তখন বিকেল সাড়ে ৩টে। তার আগে ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে সবথেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে ধর্মতলা থেকে আলিপুর চত্বরের মধ্যে, প্রায় ৫৫ মিলিমিটার। তার মধ্যেই দলের প্রতিষ্ঠাতা শিবদাস ঘোষের ৫১তম প্রয়াণ দিবসে রানি রাসমণির মঞ্চে তখন বক্তৃতা রাখছেন সাধারণ সম্পাদক প্রভাস ঘোষ। দলের ছাত্র-যুব, মহিলা থেকে সংগঠনের সব শাখার সবস্তরের নেতা-কর্মীরা কাতারে কাতারে ভিড় জমিয়েছেন বক্তৃতা শুনতে। নির্দিষ্ট শৃঙ্খলে দুর্যোগ মাথায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত বসে শুনেছেন সাধারণ সম্পাদকের প্রত্যেকটি শব্দ।
সেই বাহিনীর উদ্দেশে বিজেপিকে নিশানা করে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘‘দেশের শত্রু সমাজের শত্রুকে চিনুন। মন স্থির করে নিন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে সম্মান করবেন, নাকি তাঁর অসম্মান করছে যারা, তাদের সমর্থন করবেন।” আসলে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার জন্য অনেকাংশে সিপিএমকে দায়ী করেছেন প্রভাস ঘোষ। তাঁর কথায়, ‘‘সিপিএম রামপদে বাম বিসর্জন দিয়েছে। বিজেপিকে ভোট দিয়েছে বহু জায়গায়। ওরা ভেবেছে এবার বিজেপি, তারপর ওরা আবার ক্ষমতায় আসবে। এই জন্যই সিপিএম, সিপিআইকে আমরা বামপন্থী মনে করি না। ওরা মার্কসবাদ বিসর্জন দিয়েছে।”
বিজেপির বুলডোজার নীতির সমালোচনা করে দিল্লিতে ‘ককরোচ’ পার্টির আন্দোলন প্রসঙ্গও তোলেন কমরেড প্রভাস ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, এত আন্দোলনের পরও দুর্নীতি শেষ হয়ে যাবে না। এরপরই বাম দলগুলিকে প্রভাসবাবুর বার্তা, এটাই সময়। বৃহত্তর বাম ঐক্য গড়ে তোলার ডাক দিয়ে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে তাঁর আহ্বান, ‘‘সিপিএমের বিরুদ্ধে আমাদের কোনও বিদ্বেষ নেই। প্রকৃত বামপন্থীরা একসঙ্গে আসুন। সুবিধাবাদী রাজনীতিতে লাভ নেই।” যুক্তফ্রন্ট মনে করিয়ে বিমানের উদ্দেশে বার্তা, ‘‘বাংলা বামপন্থার ঘাঁটি ছিল। সিপিএম, সিপিআইয়ের অধঃপতনে তৃণমূল এল। এখন বিজেপি। আমাদের নেতারা বলেছিলেন আরএসএস ওঁত পেতে আছে। সুযোগ পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়বে। ঘটলও তাই।”