• 'মসজিদে আজান বাজবে না তো কী বাজবে?', অমিত শাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ মুর্শিদাবাদের ৩ সাংসদের
    আজ তক | ০৭ আগস্ট ২০২৬
  • বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করলেন মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদ ইউসুফ পাঠান, খলিলুর রহমান এবং আবু তাহের খান। পশ্চিমবঙ্গে মসজিদগুলি থেকে লাউডস্পিকার খুলে ফেলা হচ্ছে। এই  অভিযোগ করেন তাঁরা।

    তিন সাংসদই এদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি স্মারকলিপি দেন। সেখানে তাঁরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার ও মাইক্রোফোন খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

    মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহির খান বলেন, 'মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে অন্যায় হলে আমাদের খুব কষ্ট হবে। মসজিদে আজান না হলে কী হবে? আজান বন্ধ হয়ে গেলে তা গ্রহণযোগ্য নয়। আজান নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অবশ্যই মানা উচিত, কিন্তু মসজিদ থেকে মাইক খুলে ফেলা ঠিক নয়। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিষয়টি দেখার আবেদন জানিয়েছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।' তিনি আরও জানান, তাঁদের তিনজনের কেউই এনডিএ-র বৈঠকে যোগ দেবেন না।

    সাংসদদের দেওয়া স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা দেশের আইন এবং শব্দদূষণ সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে সম্পূর্ণ সম্মান করেন। তবে সেই নির্দেশ যেন কোনও ধরনের বৈষম্য ছাড়া, সব ধর্মের ক্ষেত্রে সমানভাবে এবং সংবেদনশীলতার সঙ্গে কার্যকর করা হয়। যাতে কোনও সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না লাগে।

    এছাড়াও স্মারকলিপিতে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে ঝুলে থাকা বহু মামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সাংসদদের দাবি, বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে বহু বৈধ ভারতীয় নাগরিক সমস্যার মুখে পড়ছেন। খলিলুর রহমানও জানান, মসজিদের লাউডস্পিকার এবং এসআইআর (SIR) ইস্যুতে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তাঁরা।

    তিন সাংসদই মুর্শিদাবাদ জেলার মুসলিম-অধ্যুষিত লোকসভা কেন্দ্র—বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ এবং জঙ্গিপুরের প্রতিনিধি। তাঁরা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI)-র সদস্য। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর প্রায় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ এনসিপিআই গঠন করে এনডিএ-র কাছাকাছি এলেও, এই তিন সাংসদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁরা এনডিএ বা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন না।

    তাঁদের বক্তব্য, 'আমাদের ভোটারদের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। মুসলিমদের বিরুদ্ধে যায়, এমন কোনও পদক্ষেপকে আমরা সমর্থন করব না।' যদিও উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সমন্বয় বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র নিজেদের এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই ওই বৈঠকে গিয়েছিলেন।

    সূত্রের খবর, বিজেপির সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে এলাকায় ভোটারদের একাংশের অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় তাঁরা এনডিএ-র বৈঠক এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভোটারদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাও তাঁদের এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই তিন সাংসদের অবস্থান রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, লোকসভায় ২০ সদস্যের এনসিপিআই গোষ্ঠীকে এখনও স্বীকৃতি দেননি স্পিকার ওম বিড়লা। দলবদল-বিরোধী আইনের সুরক্ষা পেতে হলে তৃণমূলের লোকসভার মোট ২৮ জন সাংসদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ ১৯ জনকে এই গোষ্ঠীতে থাকতে হবে।

    উল্লেখ্য, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ এবং জঙ্গিপুর- তিনটি লোকসভা কেন্দ্রই মুসলিম-অধ্যুষিত। ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদ জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৬৬-৬৭ শতাংশ। মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, জঙ্গিপুরেও সংখ্যাগরিষ্ঠের কাছাকাছি এবং বহরমপুরে মুসলিম জনসংখ্যা ৫০ শতাংশেরও বেশি।
  • Link to this news (আজ তক)