রাজ্যের বিবিধ ধর্মস্থান থেকে সরল ৫,২৯৯ মাইক, বিধানসভায় হিসেব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৭ আগস্ট ২০২৬
শব্দদূষণ রুখতে (noise pollution) রাজ্যজুড়ে বড়সড় অভিযান চালাল প্রশাসন। মন্দির-মসদজিদের মতো বিবিধ ধর্মস্থান থেকে এখনও পর্যন্ত সরানো হয়েছে মোট ৫,২৯৯টি মাইক বা লাউডস্পিকার (loudspeaker)। বৃহস্পতিবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে এই তথ্য জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, মসজিদ থেকে সরানো হয়েছে ৪,২০৩টি মাইক। আর মন্দির থেকে সরানো হয়েছে ১,০৯৬টি। তাঁর দাবি, কোনও রকম বৈষম্য ছাড়াই সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছে। আইন সবার জন্য সমান, স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন তিনি। কড়াভাবে আইন মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
গত কয়েক মাস ধরেই শব্দদূষণ (Noise Pollution Regulation and Control Rules) সংক্রান্ত আইন বলবৎ করতে কড়া হয়েছে রাজ্য প্রশাসন। জেলাশাসক এবং পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, অনুমতি ছাড়া মাইক বা সাউন্ড সিস্টেমের (public address system) ব্যবহার রুখতে ব্যবস্থা নেওয়ার। আধিকারিকদের বক্তব্য, ধর্মীয় এবং জনবহুল স্থানে শব্দযন্ত্র নির্দিষ্ট মাত্রা ও সময়সীমার মধ্যে মাইক বাজানো হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করাই ছিল এই বৃহত্তর কর্মসূচির লক্ষ্য।
মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য এই অভিযান ঠিক কত দিন ধরে চলেছে, তা খোলসা করেননি। সার্বিকভাবে এই বিপুল সংখ্যা স্বেচ্ছায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির মাইক সরানোর ফল, না কি প্রশাসনের সরাসরি পদক্ষেপের ফল, সে বিষয়েও কিছু জানাননি তিনি।
গত কয়েক মাস ধরে ধর্মস্থানে মাইক ব্যবহারের প্রশ্ন রাজ্য রাজনীতিতে বারবার উঠে এসেছে। রাজ্য সরকারের অবস্থান একদম স্পষ্ট, নিরপেক্ষভাবে এবং শুধুমাত্র আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান চলছে। বৃহস্পতিবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়েই সাংবাদিকদের এই তথ্য দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।