• ছেলে হওয়ার পর থেকেই মেয়েতে অনীহা, ৮ বছরের বালিকাকে গলায় ফাঁস দিয়ে খুন বাবার!
    প্রতিদিন | ০৭ আগস্ট ২০২৬
  • প্রথম সন্তান মেয়ে। বাবা হওয়ার আনন্দ দাগ কাটতে পারেনি মনে। ৮ বছর পর চাপা ক্ষোভ যে এভাবে প্রকাশ পাবে, তা কল্পনারও অতীত। কোল আলো করে ছেলে সন্তান আসতেই মেয়ের উপর শুরু হয় অত্যাচার! অবশেষে রাগের বশে মেয়ের গলায় দড়ি পেঁচিয়ে খুনের অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ পেতেই বাবাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডোমজুড়ের সলপের তেঁতুলকুলির এই মর্মান্তিক এই ঘটনা।

    অভিযোগ, স্কুল ছুটির পর দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ৮ বছরের একতা মন্ডলকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাকে গলায় দড়ির ফাঁস দিয়ে খুন করে বাবা অনুপ মন্ডল। তার পর নিজেই মেয়ের দেহ হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকদের জানান, মেয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ওইটুকু শিশু কীভাবে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করল, তা নিয়ে সন্দেহ হয় চিকিৎসকদের। তাঁরা খবর দেন পুলিশে। হাসপাতালে পৌঁছয় হাওড়া থানার পুলিশ। আসে শিশুটির মা ইশিকা মন্ডল ও তার মামা-মামিও। জানা গিয়েছে, শিশুটির মা এদিন তাঁর স্বামীর সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করে বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। শিশুটিও তার মায়ের সঙ্গে মামার বাড়ি গিয়েছিল। মামার বাড়ি থেকেই স্কুলে গিয়েছিল সকালে। আর সেখান থেকেই তার বাবা ফের একতাকে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে খুন করে বলে অভিযোগ। খুনের অভিযোগ পেয়েই হাওড়া থানার পুলিশ অনুপকে গ্রেপ্তার করে ডোমজুড় থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

    শিশুটির মামা জিৎ পাঁজার অভিযোগ, “আমার দিদি জামাইবাবুর দ্বিতীয় সন্তান ছেলে হওয়ার পর থেকেই প্রথম মেয়ে সন্তানকে অপছন্দ করতে শুরু করে জামাইবাবু। তাই দিনের পর দিন মেয়েটার উপর নানাভাবে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করত। সেই কারণেই এদিন দিদির সঙ্গে জামাইবাবুর অশান্তি হওয়ায় দিদি আমাদের বাড়িতে চলে আসে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে। তার পর মেয়েকে স্কুলে পাঠায়। কিন্তু জামাইবাবু স্কুল ছুটির পর আমার ভাগ্নিকে নিয়ে গিয়ে গলায় দড়ি দিয়ে খুন করে দেয়। আমরা চাই প্রশাসন ওকে কঠোর শাস্তি দিক।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)