স্কুলে হাতে গোনা পড়ুয়া, অথচ মিড ডে মিলের পোর্টালে সংখ্যাটা ১০ গুণ! পটাশপুরে হেডমাস্টারকে শোকজ
প্রতিদিন | ০৭ আগস্ট ২০২৬
স্কুলে পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার এক। অথচ, সরকারি পোর্টালে তার সংখ্যাটা একেবারে ভিন্ন! পটাশপুরে নৈপুর শান্তিসুধা ইনস্টিটিউশন সারপ্রাইজ ভিজিটে যেতেই চোখ কপালে উঠল বিডিও-র। দেখা গেছে, স্কুলে একদিনে পড়ুয়া সংখ্যা যা, তার চেয়ে সরকারি পোর্টালে পড়ুয়ার সংখ্যা অনেক বেশি দেখিয়ে আপলোড করা হয়েছে। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিডিও।
মিড-ডে মিলের রান্নায় খাতার কলমে দ্বিগুণ ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি দেখিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর থানার নৈপুর শান্তিসুধা ইনস্টিটিউশনে। আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে কারচুপি হাতেনাতে ধরে ফেললেন পটাশপুর-১ ব্লকের বিডিও করিমুল ইসলাম। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে স্কুলের প্রধানশিক্ষক বিকাশ বেরাকে ইতিমধ্যেই শো-কজ নোটিশ ধরিয়েছে ব্লক প্রশাসন।
জানা গিয়েছে, নৈপুর শান্তিসুধা ইনস্টিটিউশনে দীর্ঘদিন ধরে মিড-ডে মিলের বন্টন ও নথিপত্রে গরমিল করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। অধিকাংশ অভিযোগের তির ছিল স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দিকেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে মিড-ডে মিলের রান্না চলাকালীন হঠাৎই ওই স্কুলের রান্নাঘরে সারপ্রাইজ ভিজিটে পৌঁছান পটাশপুর-১ ব্লকের বিডিও করিমুল ইসলাম।ঘটনাস্থলে পরীক্ষা করে বিডিও দেখতে পান,বাস্তবে যতজন ছাত্রছাত্রীর জন্য রান্না হচ্ছে, সরকারি খাতায় তার ১০গুণ সংখ্যক শিক্ষার্থীর নামে মিড-ডে মিল দেখানো হয়েছে।
বিডিও সঙ্গে সঙ্গে ওই গরমিল নিয়ে প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। এরপরই বিডিও করিমুল ইসলাম প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে প্রধান শিক্ষকের হাতে শো-কজ নোটিশ তুলে দেন এবং দ্রুত লিখিত জবাব তলব করেন। সরকারের মিড-ডে মিল প্রকল্পে এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।