সমৃদ্ধ দত্ত ও দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: মোদি সরকার চরম অস্বস্তিতে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সংসদে গরহাজিরাকে কেন্দ্র করে লাগাতার উত্তপ্ত হচ্ছে দুই কক্ষ। বৃহস্পতিবারও ব্যতিক্রম ছিল না। কিন্তু ব্যতিক্রম হল অবস্থানে। কারণ, এই প্রথম স্বয়ং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণণ বিরোধীদের দাবির পাশে দাঁড়ালেন। তুমুল বাগবিতণ্ডা শুরু হয়েছিল কিরেন রিজিজু এবং মল্লিকার্জুন খাড়্গের মধ্যে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রিজিজু তখনই খাড়্গেকে বলেন, ‘সংসদীয় রীতিনীতি বলে একটা ব্যাপার আছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সভায় হাজির হতে বলার জন্য আপনি সভাপতিকে নির্দেশ দিতে পারেন না।’ সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীকে প্রবল তোপ দেগে খাড়্গে বলেন, ‘সংসদীয় রীতিনীতি আমাকে রিজিজুর কাছ থেকে শিখতে হবে না। কী বলব, কখন বলব, কীভাবে বলব, সেটা আমি স্থির করব। সংসদীয় বিধিতে সেটা আমার অধিকার। আপনি বলে দেবেন নাকি?’ এরপরই সভাপতি রাধাকৃষ্ণণ রিজিজুকে বলেন, ‘আপনি শুনুন, আপনি সংসদীয় মন্ত্রী। আপনি সরকারের প্রতিনিধি। আমাকে উনি মোটেই নির্দেশ দেননি। কোনো ডিকটেট করেননি। উনি আমাকে অনুরোধ করেছেন। আর আপনাকে আমার অনুরোধ যে, সংসদীয় মন্ত্রী হিসাবে আপনি বিরোধীদের এই সেন্টিমেন্টের কথা অবশ্যই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেবেন। বলবেন যে, বিরোধীরা চাইছে উনি সভায় আসুন।’
যন্তরমন্তরে আন্দোলনরত জেন জির উপর পুলিশ অত্যাচার, দমনপীড়ন কেন করেছে? কার নির্দেশে পেলেট গান চালানো হল? এই উত্তর চেয়ে লাগাতার সংসদের দুই কক্ষে বিরোধীরা সরকারকে চেপে ধরছে। অচলাবস্থার অবসান হচ্ছে না। কারণ, বিরোধীদের প্রধান নিশানা অমিত শাহ। প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদে আসতে হবে—এই দাবিতে লাগাতার চলছে বিরোধী সাংসদদের হইচই। দফায় দফায় মুলতুবি করে দিতে হচ্ছে
সভার কাজ। বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যসভা চালুর মিনিট ২০’র মধ্যে হট্টগোল। আর তার জেরে সভা মুলতুবি হয়ে যায়। বেলা ১২টায় ফের সভার কাজ শুরু হলে অমিত শাহকে নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন বিরোধী সাংসদরা। এই সময়ই কিরেন রিজিজু সহ বিজেপি তথা এনডিএ সাংসদদের সঙ্গে প্রবল বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে। কিন্তু রাজ্যসভার চেয়ারম্যান নিজেই এভাবে বিরোধীদের দাবির গুরুত্বকে প্রতিষ্ঠা দেওয়ায় সরকার যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়ে যায়। এরপরই অশান্তির অজুহাত তুলে সংসদ ভবনে বিজেপি এমপি রবিশংকর প্রসাদ, সংসদীয়মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এক সুরে বলেন, ‘বিরোধীরা সংসদকে অচল করে রেখেছে কেন? সংসদে শান্তি ফিরিয়ে আনলেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসবেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তো প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সংসদে থাকছেন। নিজের চেম্বারে থেকে সমস্ত সরকারি কাজ করছেন। সুতরাং তিনি আসছেন না, এটা ঠিক নয়।’
সরকারপক্ষের এই মন্তব্যের পর বিরোধীদের বক্তব্য, এ তো আরও আশ্চর্য কথা। যিনি প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা সংসদ ভবনের মধ্যেই নিজের অফিসে বসে থাকছেন, অথচ একবারের জন্য লোকসভা-রাজ্যসভায় আসছেন না! কারণ কী? এটা তো আরও বৃহত্তর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।