পূর্ব মেদিনীপুর: প্রধান পদ নিয়ে বিজেপিতে সংঘাত তুঙ্গে, জরুরি বিজ্ঞপ্তি জেলা সভাপতির
বর্তমান | ০৭ আগস্ট ২০২৬
শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: নন্দকুমার ব্লকের ব্যবত্তারহাট পূর্ব গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান কে হবেন, তা নিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন বিজেপির বিধায়ক ও মণ্ডল সভাপতি। সেই দ্বন্দ্ব মেটাতে ডাক পড়ে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পালের উপর। বুধবার সন্ধ্যায় তমলুকে জেলা বিজেপি কার্যালয়ে বিধায়ক নির্মল খাঁড়া ও মণ্ডল সভাপতি সন্দীপ চক্রবর্তীকে নিয়ে রুদ্ধদ্বার মিটিং করেন মেঘনাদবাবু। কে প্রধান হবেন, তা ঠিক করে দেন তিনিই। বৃহস্পতিবার সেই ব্যবত্তারহাট পূর্ব গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপির পক্ষ থেকে প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচিত হল।
শুধু নন্দকুমার নয়, পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন জায়গায় পঞ্চায়েত প্রধান নির্বাচন নিয়ে বিজেপির মধ্যে তুমুল ঝামেলা শুরু হয়েছে। দু’দিনে ময়না ব্লকে আটটি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচন হয়েছে। সেখানেও বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রধান ও উপপ্রধান বাছাই নিয়ে দলের একটা অংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এই দ্বন্দ্ব বিজেপির জেলা নেতাদের মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় জেলা বিজেপি সভাপতি মলয় সিনহা জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। কার্যকর্তাদের উদ্দেশে সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড বিশেষ করে প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচন নিয়ে বিজেপির জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে আগে আলোচনা করতে হবে। এ ব্যাপারে জেলা সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পালকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের কোনো বিচ্যুতি কিংবা অনৈতিকভাবে বোর্ড ভাঙা হলে দল কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে।’
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোট ২২৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত। ২০২৩ সালে এই জেলায় প্রায় ১৪০টি গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করে তৃণমূল কংগ্রেস। গত ৪জেম রাজ্যে পালাবদলের পর অন্তত একশো গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে তৃণমূলের প্রধানরা ইস্তফা দিয়েছেন। যেকজন এখনও দেননি তাঁদের মধ্যে একাংশ ইস্তফা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আবার, যাঁরা ইস্তফা দিতে রাজি নন তাঁদের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে চেয়ার থেকে সরাতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব।
এই মুহূর্তে প্রায় ১০০ ইস্তফা দেওয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে নতুন বোর্ড গঠন করে প্রধান ও উপপ্রধান বসানোর কাজ চলছে। কোথাও শূন্য আবার কোথাও ২০ জনের মাত্র মাত্র পাঁচজন সদস্য নিয়ে বোর্ড গঠন করে ফেলছে বিজেপি। যেমন, নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের কেন্দামারি-জালপাই গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপির কোনো সদস্য নেই। তবুও নির্দল ও তৃণমূলের সমর্থনে বোর্ড গড়েছে বিজেপি। আবার, নন্দকুমারের ব্যবত্তারহাট পূব গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের ১৫ এবং বিজেপির পাঁচ সদস্য হওয়ার সত্ত্বেও বিজেপি পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচন করেছে। মঙ্গল ও বুধবার ময়না ব্লকের আটটি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচন করেছে বিজেপি। সম্পূর্ণ গেরুয়াকরণ হতে আর দু’টি পঞ্চায়েত বাকি। বিজেপির ময়না-৩ মণ্ডল সভাপতি উত্তম সিং বলেন, দু’টি পঞ্চায়েতে এখনও তৃণমূলের প্রধান আছেন। তাঁদের একজন ইস্তফা দিতে ইচ্ছুক। অপরজনের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হবে।
পূর্ব মেদিনীপুরে নীচু তলায় গ্রাম পঞ্চায়েত একতরফা নিজেদের দখলে আনতে মরিয়া বিজেপি। কিন্তু, সেই চেষ্টায় নিজেদের মধ্যে খেয়োখেয়ি তুঙ্গে। আর, সেই ঝামেলা রুখতে শক্ত হাতে মোকাবিলা করার চেষ্টা করছে জেলা পার্টি। মেঘনাদবাবু বলেন, প্রধান ও উপপ্রধান নিয়ে আমরা স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে নাম চূড়ান্ত করব। আমাদের সঙ্গে কথা বলার আগে একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না স্থানীয় নেতৃত্ব।