টানা বৃষ্টিতে ফুঁসছে বীরভূমের নদীগুলি, জলের তলায় একাধিক কজওয়ে, দুর্ভোগ
বর্তমান | ০৭ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি চলছে। তার উপর বুধবার রাতভর মুষলধারে বৃষ্টির জেরে কার্যত বিপর্যস্ত বীরভূমের জনজীবন। বীরভূম ও প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে লাগাতার বৃষ্টির জেরে ফুঁসছে ময়ূরাক্ষী, হিংলো, শাল, চন্দ্রভাগা ও দ্বারকার মতো নদীগুলি। নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যাওয়ায় জেলার একাধিক কজওয়ে জলের তলায় চলে গিয়েছে। কোথাও জলের তোড়ে ভেঙেছে ব্রিজের দু’দিকের সংযোগকারী রাস্তা, কোথাও আবার বিপদসীমার উপর দিয়ে জল বইছে। সব মিলিয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন মানুষজন।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে দুবরাজপুর ব্লক এলাকায়। রাতভর বৃষ্টির জেরে হেতমপুর পঞ্চায়েতের ধরমপুর গ্রামের কাছে শাল নদীর ভাসা ব্রিজের উপর দিয়ে বইছে জল। জলের প্রবল তোড়ে ব্রিজের দু’দিকের রাস্তার বেশ কিছুটা অংশ ভেঙে যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। একই ছবি দুবরাজপুরের বালিজুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের মেজে ও বেলসাড়া গ্রামের মাঝে শাল নদীর কজওয়ে। সেখানে বিপদসীমার উপর দিয়ে জল বইছে। বুধবার পর্যন্ত গ্রামবাসীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করলেও বৃহস্পতিবার জল আরও বাড়ায় যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ। এর ফলে ওই ব্রিজের উপর নির্ভরশীল অন্তত ১০-১২টি গ্রামের মানুষ কার্যত জলবন্দি হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাইক হাতে পথে নেমেছে দুবরাজপুর থানার পুলিশ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার না করার জন্য মেজে, বেলসারা সহ আশপাশের গ্রামগুলিতে পুলিশের গাড়ি থেকে লাগাতার প্রচার চালানো হচ্ছে।
কাঁকরতলা থানার অন্তর্গত রসা থেকে গাংপুর গ্রামের সংযোগকারী সতীঘাটা ব্রিজটিও হিংলো নদীর জলে সম্পূর্ণ তলিয়ে গিয়েছে। ঝাড়খণ্ডে অতিবৃষ্টির ফলে হিংলো নদীতে আচমকা জলোচ্ছ্বাস দেখা দেওয়ায় এই দুই গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টির জেরে এদিন তিলপাড়া ব্যারেজ থেকেও জল ছাড়া হয়। জলের বিপুল তোড়ে ব্যারেজের অদূরে তৈরি একটি অস্থায়ী কজওয়ে সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়েছে। যদিও তিলপাড়া ব্যারেজের উপরের মূল রাস্তার সংস্কারের কাজ সদ্য শেষ হয়ে যাওয়ায় সপ্তাহখানেকের বেশি সময় ধরেই ওই অস্থায়ী কজওয়ে দিয়ে যান চলাচল বন্ধই ছিল। তাই সেখানে বড় কোনো বিপত্তি ঘটেনি।
সিউড়ি-২ ব্লকের কোমা অঞ্চলের লবাগান এলাকায় চন্দ্রভাগা নদীর একটি কজওয়ে জলের তলায় চলে গিয়েছে। মহম্মদবাজারের দ্বারকা নদীর উপর থাকা একাধিক ভাসা ব্রিজেরও একই অবস্থা। জলের তলায় সেতু চলে যাওয়া সত্ত্বেও সেখানে অনেক স্থানীয় বাসিন্দাকে চরম ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে দেখা যায়।