• পাঁচ দশক থমকে প্রকল্প, পালাবদলে আশার আলো
    এই সময় | ০৭ আগস্ট ২০২৬
  • দিগন্ত মান্না, কোলাঘাট

    বাম শাসনের পরে তৃণমূলের শাসন। দীর্ঘ পাঁচ দশকেও গেরো কাটেনি দেনান-দেহাটি প্রকল্পের। পরিণাম, প্রতি বছর বর্ষায় জলমগ্ন হয়ে পড়ে পাঁশকুড়া এবং কোলাঘাটের বিস্তীর্ণ এলাকা। ক্ষতির মুখে পড়েন আমন চাষি। এ বার কি গেরো কাটবে? রাজ্যে ফের পালাবদলে এবং উন্নয়নকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী - যে ভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন তাতে - প্রকল্প নিয়ে আশা জাগছে এখানকার মানুষের মনে। চাষিদের কথা ভেবেই দ্রুত শেষ হোক প্রকল্প, চাইছেন স্থানীয়রা।

    কেন এই প্রকল্প? পাঁশকুড়া বাজার থেকে কোলাঘাট বিবেকানন্দ মোড় পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ দেহাটি খাল পাঁশকুড়া ও কোলাঘাট - রকের সেচ ও নিকাশির ক্ষেত্রে অত্যন্ত - গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষায় খালে জলের চাপ কমাতে ১৯৭৫ সালে তৎকালীন সেচ দপ্তর 'দেনান-দেহাটি ড্রেনেজ স্কিম' নামে একটি প্রকল্প হাতে নেয়। যেখানে কোলাঘাটের বড়দাবাড় এলাকায় দেহাটি খালের দক্ষিণ দিক থেকে রূপনারায়ণ নদের দেনান পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নতুন খাল কেটে তা দেহাটি খালের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা হয়। সেই দেনান খাল খননে ১৯৭৬-এ জমি অধিগ্রহণ করে সেচ দপ্তর। ৭৭-এ খাল অর্ধেক খননের পরে ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে চাষিদের একাংশ বাধা দিলে বন্ধ হয়ে যায় খনন।

    ১৯৮৪ তে কৃষক সংগ্রাম পরিষদ প্রকল্প বাস্তবায়িত করার দাবিতে আন্দোলনে নামে। ১৯৯৫ ও ৯৭তে পাঁশকুড়া ও কোলাঘাটে বন্যা হয়। সে বার দেহাটি খাল দিয়ে বন্যার জল নামতে প্রায় দু'মাস কেটে যায়। পরিস্থিতি বুঝে দেনান খাল খননের গুরুত্ব অনুভব করেন এলাকার মানুষ। ১৯৯৯ তে দেনান খাল খননের কাজ শেষ হলেও স্থানীয়দের আপত্তিতে দুটি খালের সংযোগকারী কালভার্ট তৈরির কাজ অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় থমকে যায়। ফলে সংযোগ করা যায়নি দেনান ও দেহাটি খাল। ২০১৪য় সর্বদলীয় বৈঠকে সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে খাল দু'টির সংযুক্তিকরণে উদ্যোগী হয় সেচ দপ্তর। ২০১৮য় দুই খালের সংযোগস্থলে কংক্রিটের সেতু তৈরির কাজ শুরু হয়। এখানেও ঘটে বিপত্তি। কাজ শেষ না করেই চলে যান ঠিকাদার। কোভিড কালে কয়েক বছর কাজ বন্ধ থাকার পরে সেতুর কাজ শেষ হলেও দুটি খালের সংযুক্তিকরণ আর হয়নি। ফলে বর্ষায় জল জমার হাত থেকেও রেহাই মেলেনি।

    বাম আর তৃণমূলের শাসনে বাংলা অনেকটাই পিছিয়ে গিয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ যে অমূলক নয়, দেনান-দেহাটি প্রকল্প তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই তৎপরতাই দেনান-দেহাটি প্রকল্প শেষ হওয়ার চাবিকাঠি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। কৃষক সংগ্রাম পরিষদের সম্পাদক নারায়ণ

    চন্দ্র নায়ক বলেন, 'প্রকল্পটি চালু হলে বর্ষায় পাঁশকুড়া ও কোলাঘাট ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার জল দ্রুত নেমে যাবে। যা পাঁচ দশকেও হয়নি। রাজ্য সরকার দ্রুত চালু করুক দেনান-দেহাটি প্রকল্প, এটাই আমাদের চাওয়া।' সেচ দপ্তরের এক কর্তার কথায়, 'দেনান-দেহাটির সংযুক্তিকরণ ঘটানোর আগে খালের বাঁধ মজবুত করতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়িত করার।'

  • Link to this news (এই সময়)