নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এ যেন হাতের লেখা দিয়ে ইতিহাসকে পরখ করা। ‘কলকাতা কথকতা’ আগামী রবিবার পর্যন্ত নেহরু চিলড্রেনস মিউজিয়ামে সেরকমই ব্যবস্থা করেছে। সেখানে প্রদর্শিত হচ্ছে বিভিন্ন ক্ষেত্রের কৃতী মানুষের সই। লড কার্জন থেকে শুরু করে জ্যোতি বসু হয়ে শেন ওয়ার্ন। কে নেই সেই তালিকায়! তবে এত সইয়ের মধ্যে জ্বলজ্বল করছে ফ্রেমে বাঁধানো একটি লাল রঙের হাতের ছাপ। সংগ্রাহকরা বলছেন, এটি দুষ্প্রাপ্য। ওই লাল হাতের ছাপটি নন্দলাল বসুর ডান হাত।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বার্নার্ড শ’য়ের সই নিজের হাতে লিখে অভ্যাস করতেন সত্যজিত্ রায়। প্রদর্শনীতে সেরকম একটি পাতাও রাখা হয়েছে। ‘কলকাতা কথকতা’ এই প্রদর্শনীর নাম দিয়েছে ‘সই-সাবুদ’। গোটা প্রদর্শনীজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পুরানো কলকাতার কাহিনি। ১৭৮২ সালে ভারতের প্রথম মুখ্য বিচারপতি এলিজা ইম্পের চিঠি যেমন রয়েছে, তেমনই রাখা হয়েছে লর্ড কার্জনের সই। আবার বিধানচন্দ্র রায়, জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে সইও রাখা হয়েছে। আবার হাল আমলে চর্চিত গোপাল মুখোপাধ্যায়ের হাতে লেখা চিঠিও রয়েছে। তার পাশাপাশি ভিভিএস লক্ষণ, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সহ বিভিন্ন খেলোয়াড়ের সই করা ছোটো ছোটো ব্যাট রয়েছে এখানে। চন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, উজ্জ্বল সরদার, ফাল্গুনী দত্তরায়-সহ মোট ১৩ জন সংগ্রাহকের সংগ্রহ নিয়ে এই প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।
কেন অটোগ্রাফ নিয়ে প্রদর্শনী? উজ্জ্বলবাবু বলছিলেন, ‘আসলে এখনকার দিনে সেলফি বিষয়টাই মুখ্য হয়ে গিয়েছে। অটোগ্রাফ নেওয়ার চল যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই অটোগ্রাফ নেওয়ার নেপথ্যে লুকিয়ে থাকে নানা ধরনের গল্প। নানা ধরনের অভিজ্ঞতা। আমরা সেগুলিই মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাই।’ প্রদর্শনীতে স্কুলপড়ুয়াদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একটি কর্মশালার মাধ্যমে পড়ুয়াদের সঙ্গে সংগ্রাহকরা ভাগ করে নেবেন বিভিন্ন সময়ে এই অটোগ্রাফ সংগ্রহের অভিজ্ঞতা। প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে আর্জেন্তিনার তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির একটি জার্সি। পি সি সরকার জুনিয়র অটোগ্রাফ সংগ্রহ করেছিলেন জ্যোতি বসু, চিন্তামণি কর, সত্যজিত্ রায়ের কাছ থেকে। কিন্তু সেটি ছিল সিমেন্টের উপর। সিমেন্টের উপর করা সেই অটোগ্রাফও রাখা হয়েছে এখানে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়ক, খেলোয়ারদেরও অটোগ্রাফ রয়েছে। ‘কলকাতা কথকতা’র তরফে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সই নিয়ে একটি অটোগ্রাফের খাতাও প্রকাশ করা হয়েছে।