• তোলাবাজি-গুন্ডাগিরি বন্ধ না হলে রাজ্যে বিনিয়োগ আসবে না, এবার সরব শুভেন্দু; চাষির থেকেও টাকা নিচ্ছে পুলিশ, বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ
    বর্তমান | ০৭ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাজার চেষ্টা করেও তোলাবাজির মতো সমস্যাকে বাগে আনতে পারছে না রাজ্যের বিজেপি সরকার। অভিযোগ জানাতে সরকারিভাবে বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু থেকে দলীয় কর্মীদের গণহারে শো-কজ— কোনো কিছু বাদ দিচ্ছেন না শমীক ভট্টাচার্যরা। তাও প্রতিদিন একই অভিযোগে বিদ্ধ হতে হচ্ছে পদ্ম শিবিরকে। এই পরিস্থিতিতে এবার সরব হতে হল স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকে। বৃহস্পতিবার মিলন মেলায় বস্ত্র শিল্প সম্মেলনে যোগ দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সরব হন তোলাবাজি-গুন্ডাগিরির বিরুদ্ধে। রাজ্যের উজ্জ্বল শিল্প আবহের বার্তা দেওয়ার পাশপাশি তিনি বলেন, ‘প্রথমে আইন শৃঙ্খলা ঠিক করা উচিত। যেভাবে গুন্ডাগিরি, সিন্ডিকেটরাজ, কাটমানি, চাঁদা তোলার পরিবেশ ছিল, সেটাকে আগে বদলানো উচিত। আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি। তিন মাসে আবহাওয়া বদলানো শুরু হয়েছে। আর আগামী দিনে এখানে কোনো গুন্ডাগিরি হবে না।’ এর আগে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষরা সরাসরি বিজেপি নেতা-কর্মীদের তোলাবাজি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য ততটাও সরাসরি মন্তব্য করেননি। তবে তোলাবাজির আবহ যে রাজ্যে রয়ে গিয়েছে, সেটা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট। পরিস্থিতির বদল শুরু হয়েছে। কিন্তু পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

    শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন, এদিন তোলাবাজির বিরুদ্ধে আবারও সরব হয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। কৃষি যন্ত্রপাতি সরবারহকারীরাও যে তোলাবাজদের খপ্পর থেকে রেহাই পাচ্ছে না, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ তিনি তুলে ধরেছেন নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারের একটি অনুষ্ঠানে। তাঁর কথায়, সীমানা পেরিয়ে রাজ্যে কৃষি সরঞ্জাম আনার সময় কৃষক ও পরিবহণকারীদের কাছ থেকে পুলিশ ও দালাল চক্র প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেআইনি তোলা আদায় করছে। এর জেরে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তোলাবাজি, দুর্নীতি ও দলবিরোধী কাজকর্ম বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপের কথা আবারও বলেছেন তিনি। 

    এদিন মিলন মেলার অনুষ্ঠানের সেরে নবান্নে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে মন্ত্রিসভার বৈঠক ছাড়াও একাধিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সন্ধ্যায় নবান্ন সভাঘরের একটি চা চক্রতেও ‘তোলাবাজি সিনড্রোমে’র বিরুদ্ধে ফের সরব হন শুভেন্দু। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ‘এরাজ্যে প্রতিদিন ১ লক্ষ ব্যক্তিকে ঘুষ দিতে হয়। ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এটা আর চলবে না।’

    বিজেপির তরফে অবশ্য এই ইস্যুতে এদিনও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। উত্তর শহরতলি এবং বারাসত সাংগঠনিক জেলার বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল, অমিত মালব্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট বরদাস্ত করা হবে না। তৃণমূলের দুষ্কৃতীদের জায়গা দিলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)