• ভরা বর্ষায় পড়ুয়াদের স্কুলে পৌঁছে দিচ্ছে পুলিশ, স্বস্তিতে অভিভাবকরা
    এই সময় | ০৭ আগস্ট ২০২৬
  • বুদ্ধদেব বেরা, জামবনি

    গাছগাছালি ঘেরা শীর্ণ পথটা ধরে হইহই করে সম্বৎসর ওরা স্কুলে যায়। বর্ষাতেও এর অন্যথা হয় না। শুধু বদলে যায় ওদের অভিব্যক্তি। উচ্ছ্বাস উবে গিয়ে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে ভয়। ভেসে যাওয়ার ভয়।

    পরনে নীল–সাদা স্কুল ইউনিফর্ম। দলবেঁধে ওরা দাঁড়ায় পানপাড়া কজ়ওয়ের সামনে। কিন্তু, কজ়ওয়ে তো তলিয়ে গিয়েছে! ভরা শ্রাবণে বিলকুল বদলে গিয়েছে চেনা ডুলুংও। সে এখন খরস্রোতা। একবার পা হড়কে গেলেই সর্বনাশ। অতএব, ওরা প্যান্ট গুটিয়ে নেয়। জুতো খুলে ভরে নেয় ব্যাগে। একে অন্যের হাত ধরে। তারপরে পা টিপে টিপে, জলে ডোবা কজ়ওয়ে পেরিয়ে স্কুলে পৌঁছয়। যারা একটু নিচু ক্লাসের, বয়স কম তাদের অভিভাবকরা কোলে–কাঁধে করে পার করে দেন।

    গত সোমবার ঝাড়গ্রামের জামবনি ব্লকের ডুলুং নদীর পানপাড়া কজ়ওয়ের এমন শিউরে ওঠা একটি ভিডিয়ো (সত্যতা যাচাই করেনি 'এই সময়') ভাইরাল হয়। তারপরে বদলে গিয়েছে চেনা ছবিই। সেই ভিডিয়ো দেখে জামবনি থানা থেকে ডুলুংয়ের দু'পাড়ে মোতায়েন করা হয় চার জন সিভিক ভলান্টিয়ারকে। তাঁরা জানান, বিপজ্জনক পথে যাতায়াত আপাতত বন্ধ।

    কিন্তু, পানপাড়ার ও পারে চিচিড়া, শাবলমারায় রয়েছে হাইস্কুল, মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র, প্রাথমিক স্কুল। সেখানে এখন পরীক্ষাও চলছে। তা হলে পড়ুয়ারা কী ভাবে স্কুলে পৌঁছবে? সে মুশকিলও আসান করে দেয় জামবনি থানার পুলিশ। তারা জানায়, ডুলুংয়ের জল কজ়ওয়ের নীচে না–নামা পর্যন্ত পুলিশের গাড়ি পড়ুয়াদের স্কুলে পৌঁছে দেবে, ছুটির পরে নিয়ে আসবে।

    মঙ্গলবার সে ব্যবস্থা চালুও হয়েছে। পুলিশের এমন পদক্ষেপে খুশি পড়ুয়ারা। স্বস্তিতে অভিভাবকরাও। তাঁরা বলছেন, 'প্রতি বর্ষায় কজ়ওয়ের উপর দিয়ে বইতে শুরু করে ডুলুং। প্রাণ হাতেই ছেলেমেয়েদের স্কুলে যেতে হয়। এই প্রথম প্রশাসনের তরফে পদক্ষেপ হলো। তবে সেতুটা হলে সব সমস্যা মিটবে।'

    গ্রামবাসীদের অভিযোগ, কজ়ওয়ের দু'পাশে গার্ডওয়ালের পিলার না–থাকায় নদী পারাপারের সময়ে অনেকের সাইকেল, মোটরবাইক ভেসে গিয়েছে। ডুলুংয়ে তলিয়েও গিয়েছেন অনেকে। চিচিড়া হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র শুভাশিস পাতরের কথায়, 'বর্ষায় নদী পেরোতে ভয় তো লাগেই। তবে, উপায় কী! এ বার অবশ্য পুলিশকাকুরা স্কুলে পৌঁছে দিচ্ছেন!' নবমেরই দীপিকা পাতর বলে, 'পুলিশকাকুরা যে উপকার করছেন, সেটা আজীবন মনে রাখব।'

    বিনপুরের বিধায়ক, বিজেপির প্রণত টুডুর কথায়, 'তৃণমূল আমলে এখানে সেতু না–করে সরকারি টাকা নয়ছয় হয়েছে। আমরাই সেতু নির্মাণ করব। এলাকাবাসীকে অনুরোধ, ঝুঁকি নিয়ে নদী পেরোবেন না।'

  • Link to this news (এই সময়)