• ‘টাটারা আছেই, নয়া বিনিয়োগও হবে’, আগামী ১৯ তারিখ ২৫টি শিল্পসংস্থার হাতে জমি তুলে দেবে রাজ্য
    এই সময় | ০৭ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: একসঙ্গে ২৫টি শিল্পসংস্থাকে আগামী ১৯ তারিখ জমি হস্তান্তর করবে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, রাজ্যে পালাবদলের পরে বহু সংস্থা বিনিয়োগ করতে চাইছে। আগামী দিনে বাংলায় শিল্পের জোয়ার আসবে।

    রাজ্যে ফের ভারী শিল্পে বিনিয়োগ আসছে। পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে প্রায় ৪০০০ কোটি টাকা লগ্নি করতে চলেছে ইস্পাত প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘অমিত মেট্যালিক্স লিমিটেড’। ‘শ্যাম স্টিল’–এর পরে রাজ্যে ইস্পাত শিল্পে এটিই অন্যতম বড় বিনিয়োগ। নবান্ন সূত্রের খবর, সব ঠিক থাকলে চলতি মাসের ১৭ তারিখ ‘অমিত মেট্যালিক্স’ প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

    আগামী দিনে টাটারাও রাজ্যে বিনিয়োগ করবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে শিল্পের সেই অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ দিন রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকেও শিল্পের জন্য কিছু জমির ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে আরও নতুন শিল্পকে জমি দেওয়া হবে বলে সরকার সূত্রের খবর। এরই মধ্যে এ দিন দেশজুড়ে শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সরলীকরণের পক্ষে সওয়াল করেছেন নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ী।

    এ দিন সকালে মিলনমেলায় একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এক মাসের মধ্যে কমপক্ষে ২৫ জন শিল্পপতিকে জমি হস্তান্তর করতে চলেছি। ল্যান্ড পারচেজ় পলিসি চালু করেছি। কৃষকরা আমাদের জমি দিচ্ছেন। ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পলিসিও চালু করার কথা ভাবছি৷ ১০০ কোটির বেশি যারা ইনভেস্ট করবে, তাদের কোনও মিউনিসিপ্যালিটি, কর্পোরেশন, পঞ্চায়েতে যাওয়ার দরকার নেই।’ এ দিন বিকেলে নবান্ন সভাঘরে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১৯ অগস্ট একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিল্পপতিদের হাতে জমি তুলে দেওয়া হবে। টাটা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টাটারা রাজ্যে তো আছেই। আবার নতুন বিনিয়োগও হবে। রাজ্যে শিল্পের এই অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।’

    বৃহস্পতিবার আবাসন নির্মাতা সংগঠন ‘ক্রেডাই’-এর ওয়েস্ট বেঙ্গল চ্যাপ্টারের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও দেখা করেন শুভেন্দু। সংগঠনের তরফে প্রেসিডেন্ট সুশীল মোহতা ‘ইজ় অফ ডুয়িং বিজ়নেস’ প্রকল্পে দ্রুত অনুমোদন এবং বিনিয়োগ পরিবেশ শক্তিশালী করা নিয়ে রাজ্যের সাম্প্রতিক নীতির প্রশংসা করেন।

    অন্য দিকে, এ দিনই এনসিএইআর-এর ‘ইন্ডিয়া পলিসি ফোরাম ২০২৬’-এ অশোক লাহিড়ী বলেন, ‘দেশে শিল্পক্ষেত্রে লগ্নি ধাক্কা খাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো পরিকাঠামো। বিশেষত জমি এবং পঁুজির ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্য থাকায় ধাক্কা খাচ্ছে বিনিয়োগ।’ শুধু শিল্প প্রকল্পই নয়, সরকারি উদ্যোগে পরিকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রেও জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া একাধিক বার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে তাঁর দাবি। কাজেই জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা দূর না–করলে দেশের শিল্পায়ন এবং সরকারি পরিকাঠামো নির্মাণ মার খাবে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।

  • Link to this news (এই সময়)