• তিন ঘূর্ণাবর্তের জেরে টানা ঝড়বৃষ্টি, ভিজবে উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ, দুর্যোগ কমবে কবে?
    এই সময় | ০৭ আগস্ট ২০২৬
  • লাগাতার বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া আর ঘনঘন বজ্রপাত—গত কয়েক দিন ধরে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া কার্যত দুর্যোগপূর্ণ। শুক্রবারও পরিস্থিতির খুব একটা বদল হচ্ছে না বলেই জানিয়ে দিল আবহাওয়া দপ্তর। আকাশ মেঘলা থাকবে, দফায় দফায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে।

    আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে মৌসুমি অক্ষরেখা রাজ্যের কাছাকাছি অবস্থান করছে। একই সঙ্গে বিহার ও সংলগ্ন উত্তরবঙ্গে একটি এবং উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ ও অসমে আরও দুটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। এই তিনটি ঘূর্ণাবর্ত ও মৌসুমি অক্ষরেখার সম্মিলিত প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে রাজ্যে। তার জেরেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

    বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। কোনও কোনও জেলায় ১০০ থেকে ১২০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই সব জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    রবিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে চলেছে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত কয়েকটি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টি অনেকটাই কমে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ফলে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়তে পারে। গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া ফিরতে চলেছে। একই সঙ্গে তাপমাত্রাও কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। সব মিলিয়ে ঘর্মাক্ত ও ভ্যাপসা পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে।

    কলকাতায় শুক্র ও শনিবার বিক্ষিপ্ত ভাবে দু’-এক পশলা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর হলুদ সতর্কতাও জারি করেছে। তবে বৃষ্টির তীব্রতা দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় কম থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

    উত্তরবঙ্গের সব জেলায় বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াও বইতে পারে। জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারের দু’-এক জায়গায় ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে রবিবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমবে।

    ১. দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টি কবে পর্যন্ত চলবে?

    শনিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

    ২. এই বৃষ্টির কারণ কী?

    মৌসুমি অক্ষরেখা, বিহার-উত্তরবঙ্গ, উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ ও অসমে সক্রিয় তিনটি ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে। এর জেরেই বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

    ৩. কোন কোন জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে?

    বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে। কোথাও কোথাও ১০০ থেকে ১২০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।

    ৪. কলকাতার আবহাওয়া কেমন থাকবে?

    শুক্রবার ও শনিবার বিক্ষিপ্ত ভাবে দু'-এক পশলা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শহরের জন্যও হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    ৫. উত্তরবঙ্গে কী পরিস্থিতি?

    সব জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে।

    ৬. বৃষ্টি কবে থেকে কমবে?

    রবিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গ—দুই এলাকাতেই বৃষ্টির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমবে। মঙ্গলবারের পর অধিকাংশ জেলায় বৃষ্টি আরও কমে যেতে পারে।

    ৭. বৃষ্টি কমলে আবহাওয়া কেমন হবে?

    বৃষ্টি কমার সঙ্গে সঙ্গে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়বে। ফলে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া ফিরে আসতে পারে।

  • Link to this news (এই সময়)