প্রথমে মমতার হাত ছাড়েন, তারপর NCPI-তে, এবার NDA-তে যোগ দিতে নারাজ, ৩ বিদ্রোহী সাংসদ ঠিক কী চাইছেন?
আজ তক | ০৭ আগস্ট ২০২৬
বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই একের পর এক নাটকীয় রূপ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। এবার মুর্শিদাবাদের ৩ সাংসদ, আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান ও ইউসূফ পাঠান নতুন করে একাধিক জল্পনা উস্কে দিচ্ছেন।
এই ৩ জনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে NCPI-তে যোগ দিয়েছিলেন। এখন তাঁরা শাসকদল BJP নেতৃত্বাধীন NDA জোটে আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যে পদক্ষেপের পিছনে একটি গভীর কৌশলগত উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় জোটে যোগ দেওয়ার পরিবর্তে এই ৩ জন বিচ্ছিন্ন থাকার একটি কৌশল অবলম্বন করেছেন। তাঁরা নয়াদিল্লিতে NDA-র উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় বৈঠক থেকে দূরে থাকেন এবং রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কেবল প্রশাসনিক বিষয়েই যোগাযোগ রাখেন। তবে এই নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন ৩ জনই।
জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, 'আমাদের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ২টি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হয়েছিল। অন্য কোনও বিষয়ে আমরা মন্তব্য করব না।' এতে বোঝা যাচ্ছে, তাঁরা জোটের চেয়ে বিষয়ভিত্তিক আলোচনাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গের মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার অপসারণের বিষয়ে আলোচনা করতে NCPI-এর এই ৩ জন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন।
আলোচনাকে উন্নয়ন এবং নির্বাচনী এলাকা কেন্দ্রীয় বিষয়, যেমন ভোটার তালিকা সংস্কার ও স্থানীয় শাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে সাংসদরা আদর্শগত সহনশীলতা বা আপোসের অভিযোগ থেকে নিজেদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন বলেই মত রাজনৈতিক মহলের অধিকাংশের। এই ৩ সাংসদের NDA জোটে পুরোপুরি যোগ দিতে অস্বীকার করা NCPI-এর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
মুর্শিদাবাদের জনবিন্যাসই কি এর কারণ?
মুর্শিদাবাদ বাংলার অন্যতম সংবেদনশীল এলাকা। ৩ জনই একই নির্বাচনী এলাকা থেকে সাংসদ। জঙ্গিপুর থেকে খলিলুর রহমান, বহরমপুর থেকে ইউসূফ পাঠান এবং মুর্শিদাবাদ থেকে আবু তাহের খান।
সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনের প্রতিনিধিদের জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে BJP-কে সমর্থন করার অর্থ হতে পারে তৃণমূল ভোটারদের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকি।
তবে এই ৩ সাংসদের ভিন্ন অবস্থান ২০ সদস্যের NCPI গোষ্ঠীর জন্যও উদ্বেগের কারণ। ফলত এই বিদ্রোহী সাংসদরা, যাঁরা TMC থেকে আলাদা হয়েছেন, তাঁদের মধ্যেও বিভাজনের সম্ভাবনা রয়েছে।
BJP-কেও একটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। যেখানে জাতীয় দলগুলি প্রায়শই দলছুট গোষ্ঠীগুলিকে ভোটব্যাঙ্কে পরিণত করার চেষ্টা করে, সেখানে এই সাংসদরা দলীয় সম্মিলিত সিদ্ধান্তের চেয়ে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখাকেই বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
পশ্চিমবঙ্গের আগামী নির্বাচনের সময়ে মুর্শইদাবাদের ৩টি লোকসভা আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে বলেই অনুমান করা যায়। এটি স্পষ্ট ভাবে দেখিয়ে দেয়, যে সব এলাকায় স্থানীয় বিষ এবং জনসংখ্যার বিন্যাস একটি বড় ভূমিকা পালন করে, সেখানে কেবল রাজনৈতিক জোটই যথেষ্ট নয়। এই ধরের এলাকায় নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মূল চাবিকাঠি হবে শক্তিশালী স্থানীয় প্রভাব এবং তৃণমূল স্তরে সংগঠন।