• বহাল হাই কোর্টের রায়, বোফর্স মামলায় ইতি টানল সুপ্রিম কোর্ট, হিন্দুজাদের বিরুদ্ধে আবেদন খারিজ
    প্রতিদিন | ০৭ আগস্ট ২০২৬
  • ২০০৫ সালে দিল্লি হাই কোর্টে খারিজ হয়ে গিয়েছিল সুইডিশ অস্ত্র নির্মাতা সংস্থা ও ব্রিটেনের বিশিষ্ট শিল্পপতি দুই হিন্দুজা ভাইয়ের বিরুদ্ধে বোফর্স মামলা। ২০১৮ সালে ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে নতুন করে সুপ্রিম কোর্ট মামলা করেছিল সিবিআই। বৃহস্পতিবার সেই মামলাও খারিজ করে ঐতিহাসিক বোফর্স মামলায় ইতি টানল সর্বোচ্চ আদালত।

    বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা ও বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চে নতুন করে বোফর্স মামলার আর্জি জানিয়েছিলেন আইনজীবী অজয় কে আগরওয়াল। যদিও ওই আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন দুই বিচারপতি। এর ফলে কয়েক দশকের পুরনো এই মামলাটির কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার আরেকটি প্রচেষ্টার সমাপ্তি ঘটল।

    শুনানি চলাকালে আগরওয়াল আবেদনপত্র থেকে শ্রীচাঁদ পি হিন্দুজা ও গোপীচাঁদ পি হিন্দুজাকে (যাঁরা উভয়েই প্রয়াত হয়েছেন) বাদ দেওয়ার জন্য চার সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন। বেঞ্চ অতিরিক্ত সময় দিতে রাজি হয়নি। দুই বিচারপতির সাফ কথা, বিষয়টি আর দীর্ঘায়িত করা সম্ভব নয়।

    ২০০৫ সালের ৩১ মে এক যুগান্তকারী রায়ে দিল্লি হাই কোর্ট শ্রীচাঁদ, গোপীচাঁদ ও প্রকাশ হিন্দুজা এবং এবি বোফোর্সকে সমস্ত ফৌজদারি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়। আদালত রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে গুরুতর ঘাটতি পায়। অভিমত দেয়— ১৯৮৬ সালের বন্দুক চুক্তির ক্ষেত্রে হিন্দুজা ভাইদের যে কোনও প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল, তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে সিবিআই। পাশাপাশি, তাদের বিরুদ্ধে যে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ছিল বা কোনও অবৈধ কমিশনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল, এমনটাও প্রমাণ করা যায়নি।

    প্রসঙ্গত, ১৯৮৬ সালের ১৮ মার্চ। ভারতের সঙ্গে ১৪৩৭ কোটি টাকার চুক্তি হয় সুইডেনের অস্ত্র নির্মাণকারী সংস্থার। সেই চুক্তি মোতাবেক চারশোটি ১৫৫ এমএম হাউইৎজার গান বা কামান কেনার পরের বছর ১৯৮৭ সালের ১৬ এপ্রিল সুইডেনের এক রেডিও চ্যানেল দাবি করে, এর জন্য ভারতীয় রাজনীতিবিদ ও প্রতিরক্ষা আধিকারিকদের ‘কমিশন’ দিতে হয়েছে ওই সংস্থাকে।

    ১৯৯০ সালের ২২ জানুয়ারি সিবিআই এফআইআর দায়ের করে বোফর্সের প্রেসিডেন্ট বোফর্স মার্টিন আরবডো, অভিযুক্ত ‘মিডলম্যান’ উইন চাড্ডা ও হিন্দুজা ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে। ফৌজদারি ষড়যন্ত্র, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয় তাঁদের বিরুদ্ধে। আর এই অভিযোগের কলঙ্ক পিছু নেয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীরও।

    যদিও শেষপর্যন্ত রাজীব গান্ধীর বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতিই প্রমাণিত হয়নি। আর বোফর্সও যে নিম্নমানের ছিল না তার প্রমাণ মিলেছিল কার্গিল যুদ্ধে। মাত্র ১২ সেকেন্ডে ৩ রাউন্ড গোলা ছুড়তে পারে বোফর্স। আর সেটাই হয়ে ওঠে শত্রুকে ঘায়েল করে যুদ্ধজয়ের এক অন্যতম ফ্যাক্টর। ২০০৫ সালে দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি (এখন অবসরপ্রাপ্ত) আর এস সোধি সিবিআইয়ের অভিযোগকে খারিজ করে দেন। তার আগের বছরের ফেব্রুয়ারিতেই রাজীব গান্ধীকে নির্দোষ বলে জানিয়ে দেয় আদালত। তার পরও অনেক দূর গড়িয়েছে জল। মাঝে মাঝেই বোফর্সকে হাতিয়ার করতে দেখা যায় বিজেপিকে। ২০১৮ সালে বোফর্স মামলা ফের শুরুর আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যায় সিবিআই। সুপ্রিম কোর্টের বৃহস্পতিবারের নির্দেশে সেই চেষ্টায় ব্যর্থ হল। 
  • Link to this news (প্রতিদিন)