• অগ্নি-নিরাপত্তায় জোর রেলের, প্রতিটি কামরায় অন্তত দু’টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র
    এই সময় | ০৭ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: ট্রেন ও রেল স্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করছে ভারতীয় রেল। প্রতিটি কামরায় অন্তত দু’টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা হবে। এ ছাড়াও প্যান্ট্রি কারে বিশেষ ‘ওয়াটার মিস্ট’ অগ্নিনির্বাপক, ফায়ার অ্যান্ড স্মোক ডিটেক্টর, যাত্রীদের জন্য জরুরি যোগাযোগের সুবিধে এবং দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে।

    রেলের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের মতো বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রতিরোধ, প্রস্তুতি, উদ্ধার এবং পুনর্বাসন— এই চারটি ক্ষেত্রকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই দেশের বিভিন্ন রেলস্টেশনে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, বালি ও জলভর্তি অগ্নিনির্বাপক বালতি, জরুরি আলোর ব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। বড় স্টেশনগুলিতে যাত্রীদের লাগেজ স্ক্যান করার পাশাপাশি দাহ্য পদার্থ বহন প্রতিরোধে বিশেষ অভিযানও চালানো হচ্ছে।

    কিছুদিন আগেই দেশের প্রতিটি রেলওয়ে জ়োনে ফায়ার অডিট হয়েছে। তার পরেও সম্প্রতি বিহারের সহর্ষ ও সমস্তিপুরে যাতায়াতকারী একটি ট্রেনে গভীর রাতে আগুন লাগার ঘটনা আধিকারিকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই কারণেই রেলকর্মীদের প্রশিক্ষণেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্টেশন ম্যানেজার, গার্ড, লোকো পাইলট, সহকারী লোকো পাইলট, টিকিট কর্মী-সহ প্রথম সারির কর্মীদের অগ্নিনির্বাপণ, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং বিপর্যয় মোকাবিলার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় রেলের ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ় ইনস্টিটিউট অব ডিজ়াস্টার ম্যানেজমেন্ট (আইআরআইডিএম) নিয়মিত ভাবে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করছে, যাতে দুর্ঘটনার পরে ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

    ট্রেনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনতে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী আগুন-প্রতিরোধী আসন, বার্থ, প্যানেল, মেঝে এবং অগ্নি–নিরোধক সামগ্রী ও বৈদ্যুতিক কেবল ব্যবহার করা হচ্ছে। কোচে ইমারজেন্সি উইন্ডো এবং অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কেও স্পষ্ট নির্দেশিকা টাঙানো হয়েছে। রেল জানিয়েছে, নতুন প্রজন্মের বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা হয়েছে। এই ট্রেনের প্রতিটি কোচে চারটি করে প্যাসেঞ্জার ইমার্জেন্সি অ্যালার্ম বাটন এবং চারটি ইমার্জেন্সি টক–ব্যাক ইউনিট রয়েছে। এর মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনের ম্যানেজার বা লোকো পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

    দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের মতো পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার কাজ চালাতে রেলের হাতে ১৭৭টি অ্যাক্সিডেন্ট রিলিফ ট্রেন, ১০০টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্রেকডাউন ক্রেন এবং ১৭০টি অ্যাক্সিডেন্ট রিলিফ মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট ইউনিট রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে এগুলির সঙ্গে অ্যাম্বুল্যান্স, ভারী যন্ত্রপাতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তাও যুক্ত করা হয়। রেল মন্ত্রকের বক্তব্য, এ ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে প্রথম লক্ষ্য থাকে যাত্রীদের প্রাণরক্ষা, আহতদের দ্রুত চিকিৎসা এবং আটকে পড়া যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধার করা। তার জন্যই নিয়মিত মহড়ার মাধ্যমে রেলের নিজস্ব কর্মী এবং দমকল, পুলিশ, স্বাস্থ্য দপ্তর ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)