• শাহ-সাক্ষাতের পরে মোদীর ব্রেকফাস্ট বৈঠকেও মুর্শিদাবাদের ৩ সাংসদ, ১৯ NCPI প্রতিনিধিকে কী বার্তা প্রধানমন্ত্রীর?
    এই সময় | ০৭ আগস্ট ২০২৬
  • NCPI কি NDA-এর সঙ্গে মিশে যাবে? এই নিয়ে জল্পনার মাঝেই শুক্রবার সকালে নয়াদিল্লিতে নিজের বাসভবনে তৃণমূল-ত্যাগী সাংসদদের সঙ্গে ব্রেকফাস্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উপস্থিত ছিলেন NDA এবং শরিক দলের সাংসদরাও। সূত্রের খবর, বৈঠকে নিজের কেন্দ্র এবং রাজ্যের উন্নয়নে কাজ করার বার্তা দিয়ে মোদী বলেন, ‘রাজ্যগুলির অগ্রগতি হলে, তবেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব।’

    এ দিন সকাল ৮টা নাগাদ লোক কল্যাণ মার্গে মোদীর বাসভবনে এক এক করে হাজির হতে শুরু করেন সাংসদরা। যাওয়ার পথে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আগে কখনও এমন বৈঠকে যোগ দিইনি। আমাদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা। অধিকাংশ সাংসদই যোগ দেবেন।’ তবে মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদ যাবেন কিনা তা নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তাঁরা আলাদা বৈঠক করেছিলেন। তবে ধোঁয়াশা কাটিয়ে সুদীপদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেন আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠানও। দেব ছাড়া ১৯ জন সাংসদই ছিলেন এ দিন।

    এ দিনের বৈঠকে উন্নয়ন, সংসদীয় দায়িত্ব এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা কী হতে চলেছে তা নিয়ে মোদী সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা করেন বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সমৃদ্ধ অতীতের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘এক সময়ে পশ্চিমবঙ্গ এবং ওডিশা দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ রাজ্য ছিল। হয়ে উঠেছিল ভারতের অর্থনৈতিক শক্তির প্রতীক।’ বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের অগ্রগতি বিশ্বের কাছে এক শক্তিশালী, সমৃদ্ধ এবং আত্মবিশ্বাসী ভারতের বার্তা পৌঁছে দেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    নতুন সাংসদদের সংসদীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও একাধিক পরামর্শ দেন মোদী। সূত্রের খবর তিনি বলেন, ‘নিয়মিত সংসদে উপস্থিত থাকুন। বিতর্ক, আলোচনায় সক্রিয় ভাবে অংশ নিন।’ সাংসদদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির উপরেও জোর দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘ভারতের সমৃদ্ধ সভ্যতা, সংসদীয় ঐতিহ্য এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের তথ্য ও উপকরণ সংসদে রয়েছে। সাংসদদের সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’

    আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজেকে তুলে ধরার জন্য ‘এটাই ভারতের সময়’ বলে মনে করেন মোদী। তাঁর কথায়, ‘গোটা বিশ্বের নজর এখন ভারতের দিকে। আন্তর্জাতিক দুনিয়া জানতে চায়, ভারত কী ভাবে এগোচ্ছে, কোন পথে উন্নয়নের কাজ চলছে।’ তাই দেশের অগ্রগতির এই অধ্যায়ে প্রতিটি সাংসদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ দিনের বৈঠকে NCPI সাংসদদের দিকেই ছিল সব নজর। বৈঠক শেষে জগদীশ চন্দ্র বসুনিয়া বলেন, ‘দেশ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’

    প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কারা বৈঠকে যোগ দেন?

    উত্তর: এনডিএ ও শরিক দলের সাংসদদের পাশাপাশি তৃণমূল-ত্যাগী এনসিপিআইয়ের ১৯ জন সাংসদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

    প্রশ্ন: বৈঠকে মোদীর মূল বার্তা কী ছিল?

    উত্তর: প্রতিটি সাংসদকে নিজের কেন্দ্র ও রাজ্যের উন্নয়নে কাজ করার পাশাপাশি সংসদে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    প্রশ্ন: পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে কী বলেন প্রধানমন্ত্রী?

    উত্তর: এক সময় পশ্চিমবঙ্গ দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ রাজ্য ছিল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজ্যের অগ্রগতি দেশের উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী করবে।

    প্রশ্ন: আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারত নিয়ে কী বার্তা দেন মোদী?

    উত্তর: তাঁর মতে, এখন 'এটাই ভারতের সময়'। গোটা বিশ্বের নজর ভারতের দিকে, তাই সাংসদদেরও দেশের অগ্রগতির বার্তা তুলে ধরতে হবে।

    প্রশ্ন: বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক জল্পনা কেন?

    উত্তর: এনসিপিআইয়ের সাংসদদের উপস্থিতিকে ঘিরে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং এনডিএ-র সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)