রাজ্যে ব্লাড ডোনেশন নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের মামলা। উপহারের বিনিময়ে রক্তদান, রাজ্য রক্ত সঞ্চালন পর্ষদকে না জানিয়ে ভিন রাজ্যে রক্ত বিক্রি-সহ একাধিক অভিযোগ পেয়ে তৎপর স্বাস্থ্য দপ্তর। রক্তদানে অনিয়ম আটকাতে ১২টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ককে আপাতত শিবির করে রক্ত সংগ্রহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্টেট ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল। ১ অগস্ট থেকে জারি হয়েছে এই নিষেধাজ্ঞা। এর ফলে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশু থেকে মুমূর্ষু রোগীরা সমস্যায় পড়ছেন বলে দাবি তুলে আদালতের দ্বারস্থ বেসরকারি এক ব্লাড ব্যাঙ্ক। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে রক্ত সংগ্রহে অনিয়ম নিয়ে রাজ্য সরকারের তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে তা জানতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। এই বিষয়ে ১৪ অগস্টের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ।
নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগে কলকাতা ও শহরতলি–সহ রাজ্যের ১২টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক আতস কাচের নীচে। সরকারি স্ক্যানারে থাকা ব্লাড ব্যাঙ্কে স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে নিয়মিত অভিযানও চালানো হচ্ছে। কিন্তু গত শুক্রবার স্বাস্থ্য দপ্তর একটি আদেশনামা জারি করে জানায়, ১ অগস্ট থেকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শিবির করে রক্ত সংগ্রহ করতে পারবে না ওই ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি। তবে নিজেদের হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে, প্রশিক্ষিত টেকনিক্যাল কর্মীর সাহায্যে সরকারি নিয়ম ও বিধি মেনে রক্ত সংগ্রহ করায় কোনও বাধা নেই বলে স্পষ্ট করেছিল সরকার। রাজ্যের এই নির্দেশিকায় চ্যালেঞ্জ করে মামলা করে একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক। বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের এজলাসে এদিন সেই মামলার শুনানি হয়।
আবেদন শুনে রক্ত সংগ্রহে অনিয়ম নিয়ে রাজ্যের তদন্ত কোন পর্যায়ে তা জানতে চাইল আদালত। এ বিষয়ে তদন্তের রিপোর্ট তলব করলেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও। আগামী ১৪ অগস্টের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে রাজ্যকে। ১৯ অগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনে একাধিক ব্লাড ব্যাঙ্কে তল্লাশি চালিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে রক্ত, প্লাজমা ও রক্তজাত উপাদান বেআইনি ভাবে অন্য রাজ্যে পাঠানো, অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে সরবরাহ এবং রক্তদান শিবির পরিচালনায় নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘনের মতো অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এর মাঝে দুর্গাপুর থেকে রক্ত বিক্রির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপে অবস্থিত একটি স্কুলের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রদের টাকা দিয়ে তাদের থেকে রক্ত নেওয়া হতো বলে অভিযোগ। দুর্গাপুর থানায় এ নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন কয়েকজন অভিভাবক। এর পরেই বিষয়টি সামনে আসে।