• মূর্তি-পুতুলের রূপকথার দুনিয়ায় পড়ছে না তালা, রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপে বাঁচল নেহরু চিলড্রেন্স মিউজিয়াম
    এই সময় | ০৭ আগস্ট ২০২৬
  • শিশু প্রথম রাম-রাবণের যুদ্ধ নিজের চোখে দেখে এখানেই। পুতুল, মূর্তি, মুখোশের এক অদ্ভুত দুনিয়া যেন। আর্থিক সঙ্কটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল কলকাতার সেই নেহরু চিলড্রেন্স মিউজিয়াম। সেই খবর প্রকাশিত হয়েছিল এই সময় লাইভে। তার পরেই পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বৃহস্পতিবার বিবৃতি দিয়ে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্ধ হচ্ছে না ‘শিশুদের পৃথিবী’।

    বৃহস্পতিবার নেহরু চিলড্রেন্স মিউজিয়ামের তরফে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর মিউজিয়াম পরিচালনার জন্য সব রকমের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে। সেই কারণে শিশুদের এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি আগের মতোই খোলা থাকবে। বিজ্ঞপ্তিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত এবং মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব শান্তনু বসুকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ। তাঁদের উদ্যোগ ও সহযোগিতাতেই অনিশ্চয়তা কেটেছে বলে জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

    ১৯৭২-এর ১৪ নভেম্বর মিউজিয়ামের উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়। এখানে রয়েছে ৯৬টি দেশের ১,১০০-রও বেশি পুতুল। ৩০০ মূর্তি নিয়ে তৈরি ‘গণেশ গ্যালারি’ সংগ্রহশালার অন্যতম আকর্ষণ। মিউজিয়ামটি পরিচালনা করে ন্যাশনাল কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থার ২১ সদস্যের একটি মূল কমিটি এবং ১৫ জন অতিরিক্ত সদস্য রয়েছেন।

    কয়েক দিন আগে থার্ড পার্টি মারফত একটি সমীক্ষা চালিয়েছিলেন মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ। তখনই উঠে আসে জাদুঘরের অগ্নিনির্বাপণ ও অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থার জরুরি সংস্কার প্রয়োজন। এর জন্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে বলে অনুমান করা হয়।

    জাদুঘর কর্তৃপক্ষের দাবি, এত বিপুল টাকা খরচ করা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। আবার প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া মিউজিয়াম চালু রাখাও নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ। সেই কারণেই আগামী ১৬ অগস্ট থেকে নেহরু চিলড্রেন্স মিউজিয়াম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

    না। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়ার পর মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি আগের মতোই খোলা থাকবে।

    একটি থার্ড-পার্টি সমীক্ষায় অগ্নিনির্বাপণ ও অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থার জরুরি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে। সেই সংস্কারে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা খরচের সম্ভাবনা থাকায় আর্থিক সঙ্কটে কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে মিউজিয়াম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

    মিউজিয়াম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এরপরই মিউজিয়াম খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত এবং মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব শান্তনু বসুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

    এখানে বিশ্বের ৯৬টি দেশের ১,১০০-রও বেশি পুতুল সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়া ৩০০টি মূর্তি নিয়ে তৈরি ‘গণেশ গ্যালারি’ দর্শকদের অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র।

    ১৯৭২ সালের ১৪ নভেম্বর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় এই মিউজিয়ামের উদ্বোধন করেন।

    নেহরু চিলড্রেন্স মিউজিয়াম পরিচালনা করে ন্যাশনাল কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থার ২১ সদস্যের মূল কমিটি এবং ১৫ জন অতিরিক্ত সদস্য রয়েছেন।

    শিশুদের শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে এই মিউজিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশ-বিদেশের পুতুল, মুখোশ, ভাস্কর্য এবং বিভিন্ন থিমভিত্তিক প্রদর্শনী শিশুদের কাছে এটিকে একটি অনন্য আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত করেছে।

  • Link to this news (এই সময়)