কলকাতার ২০৯ ওয়ার্ডের খসড়া প্রকাশ, দেখে নিন আপনার এলাকা কোন ওয়ার্ডে
আজ তক | ০৭ আগস্ট ২০২৬
কলকাতার ১৪৪টি ওয়ার্ড ভেঙে ২০৯টি ওয়ার্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সেই মোতাবেক ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনের বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। কলকাতা পুর আইনের (১৯৮০) তফসিল-২ অনুযায়ী প্রস্তাবিত ওয়ার্ডগুলির সীমানা নির্ধারণ করে প্রাথমিক খসড়া প্রকাশ হল। অর্থাৎ তা সংশোধনের সুযোগ থাকছে। ৫ অগাস্ট থেকে ১৩ অগস্ট পর্যন্ত এই খসড়া জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। এই সময়ের মধ্যে নাগরিকরা আপত্তি বা পরামর্শ জানাতে পারবেন। পুরসভার প্রস্তাবিত প্রতিটি ওয়ার্ডের ভৌগোলিক সীমানা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। প্রসঙ্গত, ২০৯ ওয়ার্ড হলে পুরোনো অনেক ওয়ার্ড ভেঙে যাবে বা অন্য কোনও ওয়ার্ডের অন্তর্গত হবে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৫ অগাস্ট থেকে ১৩ অগস্ট পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার দফতরে অফিস চলাকালীন সময়ে এই খসড়া সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য রাখা হবে। কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা চাইলে এই সময়ের মধ্যে নিজেদের আপত্তি বা পরামর্শ লিখিতভাবে কলকাতা পুরসভার মিউনিসিপ্যাল কমিশনারের কাছে জমা দিতে পারবেন।
সরকার আরও স্পষ্ট করেছে, এটি চূড়ান্ত তালিকা নয়। কলকাতা পুর আইন, ১৯৮০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রয়োজনীয় সংশোধন হওয়ার পরই চূড়ান্ত তফসিল প্রকাশ করা হবে। অর্থাৎ, আপত্তি ও পরামর্শ বিবেচনার পর প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করে চূড়ান্ত ওয়ার্ড সীমানা নির্ধারণ করা হবে।
৩০ পাতার এই খসড়া নথিতে কলকাতা পুরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম সীমা রাস্তা, খাল, রেললাইন, নদী, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং অন্যান্য ভৌগোলিক চিহ্নের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। যেমন ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শুরু করে পরবর্তী ওয়ার্ডগুলির ক্ষেত্রে কোন রাস্তা বা প্রাকৃতিক সীমারেখা ধরে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ রয়েছে।
ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতের কলকাতা পুরসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, নতুন সীমানা কার্যকর হলে একাধিক ওয়ার্ডের ভৌগোলিক বিস্তার ও ভোটারদের বিন্যাসে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সেই পরিবর্তন কার্যকর হবে চূড়ান্ত তফসিল প্রকাশের পরেই। এই বিষয়টি বিজ্ঞপ্তিতেই স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ওয়ার্ড ও এলাকা : নিচে কয়েকটি ওয়ার্ড ও তার এলাকা দেওয়া হল। তবে এই এলাকাগুলি ওই ওয়ার্ডেই থাকবে- সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। প্রাথমিকভাবে এই খসড়া প্রকাশ করেছে সরকার। একনজরে দেখে নিন -
১ নম্বর ওয়ার্ড : উত্তর কলকাতার কাশীপুর-চিৎপুর অঞ্চলের বড় অংশ নিয়ে গঠিত ১ নম্বর ওয়ার্ড। প্রামাণিক ঘাট রোড, কসিপুর রোড এবং কাশীনাথ দত্ত রোড এই ওয়ার্ডের উত্তর সীমানা। দক্ষিণে রয়েছে রুস্তমজি পারসি রোড, রতনবাবু রোড, গোপী মণ্ডল লেন এবং গোপালচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রোড। পূর্ব দিকে বিটি রোড এবং পশ্চিমে হুগলি নদী এই ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণ করেছে। ফলে কাশীপুর, চিৎপুর, প্রামাণিক ঘাট সংলগ্ন এলাকা এই ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। দেখে নিন সম্পূর্ণ তালিকা-
২ নম্বর ওয়ার্ড : কাশীপুরের দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত এই ওয়ার্ড। উত্তরে গোপী মণ্ডল লেন, গোপালচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রোড ও গোবিন্দ মণ্ডল রোড, দক্ষিণে খগেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রোড, পূর্বে বিটি রোড এবং পশ্চিমে কসিপুর রোড রয়েছে। মূলত কাশীপুরের আবাসিক এলাকার বড় অংশ এই ওয়ার্ডে রয়েছে।
৩ নম্বর ওয়ার্ড : দক্ষিণ সিঁথি ও দমদম রোড সংলগ্ন এলাকা নিয়ে গঠিত ৩ নম্বর ওয়ার্ড। কালিচরণ ঘোষ রোড, রামকৃষ্ণ ঘোষ রোড, দমদম রোড, গৌরসুন্দর শেঠ লেন এবং পূর্ব রেলের অংশ এই ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণ করেছে। দক্ষিণ সিঁথির একটি বড় অংশ এই ওয়ার্ডের অন্তর্গত।
৪ নম্বর ওয়ার্ড: এই ওয়ার্ডও দক্ষিণ সিঁথি এলাকার অংশ নিয়ে গঠিত। উত্তরে সাউথ সিঁথি রোড ও কালিচরণ ঘোষ রোড, দক্ষিণে দমদম রোড এবং পূর্বে পূর্ব রেলের লাইন রয়েছে। সামার সরণি ও গৌরসুন্দর শেঠ লেন পশ্চিম সীমা নির্ধারণ করেছে।
৫ নম্বর ওয়ার্ড : পাইকপাড়া এলাকার বড় অংশ নিয়ে গঠিত ৫ নম্বর ওয়ার্ড। উত্তরে দমদম রোড, দক্ষিণে রাজা মনীন্দ্র রোড, উমাকান্ত সেন লেন ও বীরপাড়া লেন রয়েছে। পূর্বে পূর্ব রেল ও পাইকপাড়া রো এবং পশ্চিমে নর্দার্ন অ্যাভিনিউ, শ্রীনাথ মুখার্জি রোড এই ওয়ার্ডের সীমানা।
৬ নম্বর ওয়ার্ড : পাইকপাড়ার পশ্চিমাংশ এই ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। উত্তরে দমদম রোড, দক্ষিণে পাইকপাড়া রাজা মনীন্দ্র রোড, পূর্বে নর্দার্ন অ্যাভিনিউ ও শ্রীনাথ মুখার্জি রোড এবং পশ্চিমে বিটি রোড রয়েছে।
৭ নম্বর ওয়ার্ড : কাশীপুর ও চিৎপুরের নদীতীরবর্তী অংশ নিয়ে গঠিত এই ওয়ার্ড। উত্তরে রতনবাবু রোড, রুস্তমজি পারসি রোড ও খগেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রোড রয়েছে। দক্ষিণে কৃপানাথ দত্ত রোড, কৃষ্ণলাল দাস রোড, হরিধন দত্ত লেন এবং কালীপ্রসন্ন সিংহ স্ট্রিট। পশ্চিম সীমানা জুড়ে রয়েছে হুগলি নদী।
৮ নম্বর ওয়ার্ড : হুগলি নদীর ধারের কাশীপুর অঞ্চলের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ড এটি। উত্তরে কৃপানাথ দত্ত রোড ও কৃষ্ণলাল দাস রোড, দক্ষিণে সার্কুলার ক্যানাল, পূর্বে বিটি রোড ও কসিপুর রোড এবং পশ্চিমে হুগলি নদী এই ওয়ার্ডের সীমানা গড়ে তুলেছে।
৯ নম্বর ওয়ার্ড : বেলগাছিয়া ও পাইকপাড়া সংলগ্ন এলাকা নিয়ে গঠিত ৯ নম্বর ওয়ার্ড। উত্তরে পাইকপাড়া রাজা মনীন্দ্র রোড, দক্ষিণে খুদিরাম বসু সরণি ও সার্কুলার ক্যানাল, পূর্বে অনাথনাথ দেব লেন ও ইন্দ্র বিশ্বাস রোড এবং পশ্চিমে বিটি রোড রয়েছে।
১০ নম্বর ওয়ার্ড: বেলগাছিয়া এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। উত্তরে রাজা মনীন্দ্র রোড, দক্ষিণে খুদিরাম বসু সরণি, পূর্বে পূর্ব রেল এবং পশ্চিমে অনাথনাথ দেব লেন, ইন্দ্র বিশ্বাস রোড ও রেল কোয়ার্টারের পশ্চিম সীমানা রয়েছে।
১১ নম্বর ওয়ার্ড : এই ওয়ার্ডটি মূলত বেলগাছিয়া রোড এবং পূর্ব রেলের মাঝামাঝি এলাকাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। কৃষ্ণ মল্লিক লেন, কুণ্ডু লেন এবং রেল কোয়ার্টারের সীমানা এই ওয়ার্ড নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
১২ নম্বর ওয়ার্ড : উল্টোডাঙা ও বেলগাছিয়া সংলগ্ন অঞ্চলের একটি অংশ নিয়ে গঠিত এই ওয়ার্ড। উত্তরে নিউ সার্কুলার ক্যানাল, দক্ষিণে বিধাননগর রোড, উজির চৌধুরী রোড, কৃত্তিবাস মুখার্জি রোড ও আরিফ রোড রয়েছে।
১৩ নম্বর ওয়ার্ড : উল্টোডাঙা, শ্যামবাজার ও মানিকতলা সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা এই ওয়ার্ডে পড়েছে। উত্তরে সার্কুলার ক্যানাল ও বিধাননগর রোড, দক্ষিণে শ্রী অরবিন্দ সরণি, পূর্বে ক্যানাল ইস্ট রোড এবং পশ্চিমে বিধান সরণি ও আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রোড রয়েছে।
১৪ নম্বর ওয়ার্ড : শ্যামবাজার ও বাগবাজারের ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল নিয়ে গঠিত ১৪ নম্বর ওয়ার্ড। শ্যামবাজার স্ট্রিট, ভূপেন্দ্র বসু অ্যাভিনিউ, বাগবাজার স্ট্রিট, রামকান্ত বসু স্ট্রিট, শ্রী অরবিন্দ সরণি, বিধান সরণি এবং যতীন্দ্রমোহন অ্যাভিনিউ এই ওয়ার্ডের প্রধান সীমানা।
১৫ নম্বর ওয়ার্ড : বাগবাজার ও হুগলি নদীর তীরবর্তী এলাকার একটি বড় অংশ নিয়ে গঠিত ১৫ নম্বর ওয়ার্ড। উত্তরে সার্কুলার ক্যানাল, দক্ষিণে বাগবাজার স্ট্রিট, বোসপাড়া লেন, নিবেদিতা লেন ও রামকান্ত বসু স্ট্রিট, পূর্বে বিধান সরণি ও গিরিশ অ্যাভিনিউ এবং পশ্চিমে হুগলি নদী রয়েছে।