নিষিদ্ধ রক্তদান শিবির! ১১ বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের উপর নিষেধাজ্ঞা, হাইকোর্টে মামলা
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৭ আগস্ট ২০২৬
রক্তের অভাবে বহু রোগীর জীবন-মৃত্যুর লড়াই চলতে থাকে প্রতিনিয়ত। সেই পরিস্থিতিতেই রাজ্যের ১১টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের (Blood Bank) স্বেচ্ছা রক্তদান শিবির আয়োজন করে রক্ত সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। রক্ত সংগ্রহ ও বণ্টনে একাধিক অনিয়মের অভিযোগে ১ অগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক।
রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিল জানিয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে (Blood Bank) আকস্মিক পরিদর্শনে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্ক (Blood Bank) বাইরে রক্তদান শিবির আয়োজন করে রক্ত সংগ্রহ করতে পারবে না। তবে নিজেদের হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে সরকারি নিয়ম মেনে প্রশিক্ষিত কর্মীদের মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহে কোনও বাধা নেই।
শুক্রবার মামলার (Calcutta High Court) শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও রাজ্যের কাছে জানতে চান, তদন্তের অগ্রগতি কোথায় পৌঁছেছে। আদালত আগামী ১৪ আগস্টের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১৯ আগস্ট। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত রক্ত সংগ্রহ, রক্তদান শিবির পরিচালনায় নিয়মভঙ্গ, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই লোহিত রক্তকণিকা ও প্লাজমা ভিন্রাজ্যে বিক্রির মতো গুরুতর অভিযোগে ওই ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কের (Blood Bank)বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। ১ আগস্ট থেকে বাইরে রক্তদান শিবির করে রক্ত সংগ্রহ বন্ধ রাখতে হয়েছে তাদের। সেই কারণেই এই অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে সোনারপুর, এন্টালি, যোধপুর পার্ক, আলিপুর রোড, পদ্মপুকুর, বেলেঘাটা, হাওড়া, কৃষ্ণনগর, রায়গঞ্জ, পূর্ব বর্ধমান এবং অন্ডালের ১১টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক (Blood Bank)। আদালতের নজর এখন একদিকে তদন্তের গতিপ্রকৃতির দিকে, অন্যদিকে রক্তের জোগান যাতে ব্যাহত না হয়, সেই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে এগোতে চাইছে কলকাতা হাইকোর্ট এবং আইনজীবী মহলের একাংশে।