চোখের চিকিৎসায় বিদেশযাত্রার মরিয়া চেষ্টা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দু’দফায় কলকাতা হাই কোর্ট হয়ে দ্বিতীয়বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। গত ৫ আগস্ট কলকাতা হাই কোর্ট তাঁর মামলা খারিজ করে দেয়। ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। আগামী সপ্তাহে মামলার শুনানির সম্ভাবনা।
২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে মুর্শিদাবাদের কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জাতীয় সড়কের উপর তাঁর গাড়ি উলটে যায়। বাঁ চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছিল অভিষেকের। তখন তাঁর বয়স মাত্র ২৯ বছর। প্রথমে কলকাতার এক নার্সিংহোমে চিকিৎসা হয়। তবে তার পরও সমস্যা থাকায় অভিষেক বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করান। পরবর্তীকালে একাধিকবার বিদেশে যেতে হয়েছে তাঁকে। চোখের চিকিৎসার জন্য এবারও আমেরিকা যেতে চান তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে এখানে বেশ কিছু মামলা থাকায় আদালতের নির্দেশ ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না। তাই বিদেশযাত্রার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক।
গত ২৯ জুলাই আমেরিকা যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০ জুলাই কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলার শুনানিতে এই বিদেশযাত্রা নিয়ে স্পষ্ট আপত্তি করা হয়। আদালত প্রশ্ন তোলে, বিদেশে গিয়েই কেন চোখের চিকিৎসা করতে হবে? কলকাতায় চোখের চিকিৎসার জন্য একাধিক হাসপাতাল রয়েছে। এসএসকেএম হাসপাতালেই তিনি চোখের চিকিৎসা করাতে পারেন। প্রয়োজনে এসএসকেএম হাসপাতালে অভিষেকের চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দেবেন বলেও জানান বিচারপতি। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান অভিষেক। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মামলা ফের ফেরত যায় হাই কোর্টে। কলকাতা হাই কোর্ট আবার গত ৫ আগস্ট মামলা খারিজ করে দেয়। এসএসকেএম হাসপাতালেই চিকিৎসা করাতে হবে বলে জানিয়ে দেয়। সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ অভিষেক।